ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮ আসনে এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৭৯ আসনে। এছাড়া বামজোট দুটি আসনে এগিয়ে আছে।
আজ সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত গণণা করা ভোটের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। এনডিটিভি ও আনন্দবাজার অনলাইন থেকে পাওয়া সর্বশেষ খবরেও একই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে কোন আসনে কত শতাংশ ভোট গণণা করা হয়েছে তা এখনও জানানো হয়নি।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনে প্রয়োজন কমপক্ষে ১৪৮টি আসনে জয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করায় ২৯৩টি আসনের ফল গণনা চলছে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যজুড়ে ভোটগ্রহণ হয়। আজ স্থানীয় সময় সকাল ৮টা কলকাতাসহ ২৩টি জেলায় ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় ভোট গণনা।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোট গণণায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ভোটের ফলাফল নিয়ে পুরো রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগে দেখা যায়নি।
রাজ্যের দুই দফায় ভোট গ্রহণে রেকর্ড ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। বুথফেরত সমীক্ষার বড় অংশই ইঙ্গিত দেয়, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে এবং বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন ৪৩২ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি আসনে ৪৯ জন গণনা পর্যবেক্ষক রয়েছেন। রাজ্যে সেটাই সর্বাধিক। সবচেয়ে কম আলিপুরদুয়ারে। সেখানে পাঁচটি আসনে ছয়জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
ব্যাপক সহিংসতা, ইভিএম কারচুপি এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রের সব বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতায় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার চিত্র ধরা পড়ে। নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে বলা হয়, সেখানে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ ছিল না। ফলতা বিধানসভার মোট ২৮৫টি বুথে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোট গ্রহণ হবে।
আমার বাঙলা/আরএ