নীলফামারীতে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০টি হারানো ও চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের সাইবার সেলের প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতায় এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের উদ্যোগে সাইবার সেল প্রতিষ্ঠার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হলো। এর আগে প্রথম দফায় উদ্ধার হওয়া ২০টি মোবাইল ফোন গত মাসে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহসিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এবিএম ফয়জুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন সাইবার সেল গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে চুরি ও হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের বিষয়ে থানায় করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলার তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তির সহায়তায় ফোনগুলো উদ্ধারে কাজ শুরু করে সাইবার সেল। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দফায় ৩০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সৈয়দপুর উপজেলা শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মোকাররম হোসেন।
তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই তাঁর ব্যবহৃত রিয়েলমি C3 মডেলের মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়। দুই দিন পর তিনি সৈয়দপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে বুধবার রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সাইবার সেল থেকে তাকে ফোন উদ্ধারের বিষয়ে মেসেজ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তিনি পুলিশ কার্যালয়ে এসে নিজের ফোনটি ফেরত পান।
মোকাররম হোসেন বলেন, পুলিশের এই বিশেষ উদ্যোগে তিনি কৃতজ্ঞ। মাত্র দুই মাসের মধ্যে হারানো ফোনটি ফিরে পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম ফয়জুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের সেট রয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সাইবার সেলের সদস্যরা প্রযুক্তির ব্যবহার করে ফোনগুলো উদ্ধারে কাজ করছেন। প্রতি মাসে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন বলেন, বৃহস্পতিবার যেসব মোবাইল ফোন হস্তান্তর করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো কোনোটি হারানোর দুই মাস পর, আবার কোনো কোনোটির বিষয়ে দুই বছর আগেও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। বিভিন্ন সূত্র ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ফোনের অবস্থান শনাক্তের পর উদ্ধার করা হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি