কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় দুই বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন মুকুল মিয়া (৩৮)। অর্থের অভাবে বন্ধ রয়েছে তার উন্নত চিকিৎসা। পরিবারের দাবি, অসুস্থ হওয়ার পর মুকুলের আচরণে পরিবর্তন আসে। কখনো তিনি হিংস্র হয়ে ওঠায় পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার দুই পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে।
মুকুল মিয়া উপজেলার বজরা ইউনিয়নের চর বজরা গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী কহিনুর বেগম (৩৪), দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। একসময় দিনমজুরি করে পরিবারের খরচ চালালেও অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তিনি আর কাজ করতে পারছেন না। এতে পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট।
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময়ে মুকুলের চিকিৎসা করানো হলেও তার অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। অর্থের অভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্বজনদের ভাষ্য, অসুস্থতার পর মুকুল কখনো সন্তানদের গলা চেপে ধরেন, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তাকে শিকলবন্দী করে রাখতে হচ্ছে।
এদিকে তিস্তা নদীর ভাঙনে একাধিকবার বসতভিটা হারিয়েছে মুকুলের পরিবার। পরিবারের দাবি, প্রায় ১০ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে বর্তমানে চর বজরা এলাকার টারীপাড়ায় ওয়াপদা বাঁধের নিচে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন তারা। ঘরটির টিনের চালও নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। অর্থের অভাবে সেটিও সংস্কার করতে পারছেন না তারা।
মুকুলের বড় মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, যেখানে প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে মুকুলের চিকিৎসা এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
মানবিক সহায়তার আবেদন
মুকুলের উন্নত চিকিৎসা, পরিবারের খাদ্য ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, মুকুলের বিষয়ে তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে ইউনিয়ন সমাজকর্মীকে ওই পরিবারে পাঠানো হবে। তদন্তের পর তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি