ইসরায়েলের একটি আদালত জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কেৎসিওত কারাগারের চারপাশে কুমিরভর্তি পরিখা তৈরির পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। প্রাণিকল্যাণ সংক্রান্ত একটি মামলার পর রোববার আদালত এই আদেশ দেন, যা ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণিকল্যাণ সংস্থা ‘লেট দ্য এনিম্যালস লিভ’-এর আবেদনের ভিত্তিতে জেরুজালেম জেলা আদালত বহু ফিলিস্তিনি বন্দি রাখা মরুভূমির এই কারাগারে কুমির স্থানান্তরের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আবেদনকারীদের দাবি, কুমির একটি সংরক্ষিত প্রাণী হওয়ায় নিরাপত্তার কাজে ব্যবহারের আইনি ক্ষমতা সরকারের নেই। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালত এই সিদ্ধান্ত কুমিরের সংরক্ষণ বিবেচনায় নিয়েছে, বন্দিদের মানবিক অধিকারের কথা ভেবে নয়।
বৈরুতভিত্তিক নীতিবিশেষজ্ঞ হুসেইন শোকর বলেন, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী কিছু নেতা ফিলিস্তিনিদের এমন হুমকি হিসেবে দেখেন যাদের যেকোনো উপায়ে দমন করা উচিত, আর এই পরিকল্পনা মধ্যযুগীয় নিষ্ঠুরতার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। মানবাধিকার সংস্থা কেইজ ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক মোয়াজ্জাম বেগও পরিকল্পনাটিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ আটক কেন্দ্র থেকে অনুপ্রাণিত এমন মডেল অনুসরণ করলে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কেৎসিওত কারাগার নিয়ে নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অনাহার ও চিকিৎসা অবহেলার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা বি’ৎসেলেম, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা নথিভুক্ত করেছে। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ২৪ হাজার ৬০০-র বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে, এছাড়া গাজা থেকেও হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।
আমার বাঙলা/ তালহা