ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশটি থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া চার প্রতিষ্ঠান হলো—‘পোর্টিস পার্টনার এলএলপি’, ‘সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড’, ‘পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব ভারতীয় কোম্পানি ইরান থেকে তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন ও বিক্রির পাশাপাশি দেশটির তেল রপ্তানিতে সহায়তার বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের চার কোম্পানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সুযোগ ও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তেহরান চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী’ অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, এই অভিযানের সময় কোনো দেশ যদি তাদের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহযোগিতা করে, তাহলে সেই দেশকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানকে সহায়তার পথও বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি