ফাইল ছবি
জাতীয়

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে নেই কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা লক্ষাধিক রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। রাখাইনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে তারা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের আশ্রয় দেবার পর থেকেই সমস্যা তৈরি হতে থাকে বাংলাদেশে। হত্যা, গুম, অপহরণ, ছিনতাই, মাদক ইত্যাদি আরও নানারকম সামাজিক অপরাধ দেখা দিতে থাকে বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায়। রোহিঙ্গাবিষয়ক নবনিযুক্ত উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নেওয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সমস্যা সমাধানে এখন পর্যন্ত কোনো বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’।

বুধবার (২০ নভেম্বর) দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, দীর্ঘ দিনের এই সংকটটি মোকাবিলায় আমরা যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি। ফলে বিশ্বব্যাপী বিষয়টির ওপর নজর কমে গেছে।

ড. খলিলুর রহমান সমস্যাটিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরুজ্জীবিত করার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এটাই হবে তার শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় গতি পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, তার তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো- রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক ফোরামে যাতে প্রাধান্য পায়, তা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতায় চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনাকালে, ড. রহমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উদ্ভুত রাজনৈতিক দৃশ্যপটের কথা স্বীকার করে বলেন, সেখানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। তিনি মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, সেটাকে বাস্তবতায় নিয়েই আমাদের সামনে এগুতে হবে।

তিনি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঢাকাকে পরিস্থিতিটি যত্ন সহকারে মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। ড. রহমান বলেন, বাংলাদেশ ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক দমন-পীড়নের পর থেকে কক্সবাজারে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এখানকার মানবিক সংকট অত্যন্ত নাজুক হলেও বিশ্বের অন্যত্র চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী মনোযোগ এখন সবগুলো অঞ্চলের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাখাইনের সংকটই আজকের বিশ্বের একমাত্র প্রধান সমস্যা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ চলছে এবং আমাদের আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও সমর্থনের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হবে। তা সত্ত্বেও কঠিন পরিস্থিতিতে বসবাসকারী দশ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে সামনে রেখে সংকটের মানবিক দিকটিকে সামনে রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

উদ্ভুত পরিস্থিতি একটি সতর্ক ও সমন্বিত সাড়া পাওয়ার দাবি রাখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকার প্রয়োজন পশ্চিমা জোটের অব্যাহত সমর্থন, কারণ তারা বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তায় প্রধান অবদানকারী। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উদ্দেশ্যটি পরিষ্কার- রোহিঙ্গারা মূলত রাখাইনের বাসিন্দা, তারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের অবশ্যই তাদের দেশে ফিরে যেতে হবে। এর বিকল্প কোন সমাধান নেই।

২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের নির্বাসন শুরু হওয়ার পর থেকে, মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে শরণার্থীদের মধ্যে আস্থার অভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের চুক্তি সত্ত্বেও প্রত্যাবাসনের আগের প্রচেষ্টা দুবার ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্যস্থতায় চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি দেশটি জাতিসংঘের প্রস্তাব ও মিয়ানমারের পদক্ষেপের সমালোচনামূলক বক্তব্যেরও বিরোধিতা করছে।

অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তার পশ্চিমা অংশীদারদের বিরূপও করতে পারছে না, যা বাংলাদেশের অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে। রোহিঙ্গা সংকট এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সমস্যাগুলির মধ্যে একটি, যার কোনো সুস্পষ্ট সমাধান নেই।

ড. রহমানের নিয়োগ এমন এক সময়ে এসেছেন যখন এ সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক চাপ নতুন করে এখানে আলোকপাত করছে। এদিকে, বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে একটি সময় সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা প্রস্তাব পেশ করার জন্য ২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে নিয়ে উচ্চ-পর্যায়ের একটি জাতিসংঘ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে ৭৯তম ইউএনজিএর সপ্তাহব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

.

আমার বাঙলা/এসএইচ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

কৃষকের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে কলাপাড়ায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ও ধানের লাভজনক দাম নিশ্চিতের দাবিত...

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতপ্রবণ জেলা ও বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়

বাংলাদেশে এক দশকে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে...

রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

জয় দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। তাওহিদ...

চ্যাটজিপিটির কাছে লাশ গুমের উপায় জানতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্...

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার বা...

ইনজুরিতে আইপিএল শেষ স্যান্টনারের

কাঁধের ইনজুরির কারণে চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বাকি ম্যাচগুলোতে...

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের আছে: রাশিয়া

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, হরমুজ প্রণালি...

আইনগত সহায়তা দিবসে কলাপাড়ায় র‍্যালি ও সভা অনুষ্ঠিত

“সরকারি খরচে বিরোধ নিষ্পত্তি, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্য সা...

ফুটবল বিশ্বকাপে ড্রোন হামলার শঙ্কা

ফুটবল বিশ্বকাপে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় ন্যাশনাল গার্...

নীলফামারী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ন...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা