দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবনের উপকূলীয় উপজেলা মোরেলগঞ্জে দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুঠিবাড়িসহ সরকারি–বেসরকারি অর্ধশতাধিক ভবন যুগের পর যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ভবন ধসের আতঙ্কে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি জরাজীর্ণ এসব ভবন দ্রুত অপসারণ করা হোক।
সরেজমিনে জানা যায়, ১৮৪৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি রবার্ট মোরেলের স্ত্রী হেনরী মোরেল পানগুছি নদীর তীরে নির্মাণ করেছিলেন কুঠিবাড়ি। নিচতলায় ছিল অশ্বশালা, সুড়ঙ্গ, নাচঘর, গুদামঘর, নির্যাতন কক্ষসহ বিভিন্ন ব্যবহারের ঘর। প্রায় দেড়শ’ বছর আগের এই স্থাপনা আজ জরাজীর্ণ ও সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত।
উপজেলা প্রশাসনিক এলাকায় আশির দশকে নির্মিত অনেক সরকারি-বেসরকারি ভবনও ২৫–৩০ বছর ধরে ব্যবহারবহির্ভূত। এরমধ্যে রয়েছে প্রশাসনের আবাসিক কোয়ার্টার, পুরাতন কোর্ট ও সেটেলমেন্ট অফিস, বিআরডিবির আবাসিক ভবন, কৃষি বিভাগের গুদামঘর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার ৬টি ভবন ও খাদ্যগুদামের দুইটি বৃহৎ ভবন। বেশ কিছু ভবনে এখনো ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন সরকারি কর্মচারীরা।
উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, পরিত্যক্ত ৪টি ভবনের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, চিহ্নিত ভবনের তালিকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ জানান, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কারণে ঝুঁকি বেড়েছে এবং অপসারণ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমারবাঙলা/এসএ