ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ আর ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে বন্ধ আছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ। এই উত্তেজনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়েছে হাজারো ভ্রমণকারী। তাদের খাবার ও আবাসনের দায়িত্ব নিয়েছে দেশটির সরকার।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে বন্ধ হয়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান বিমানবন্দরগুলো। ফলে বাতিল হয় অসংখ্য ফ্লাইট। এতে অন্তত ২০ হাজারের বেশি যাত্রী আটকে পড়েন দেশটিতে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিচ্ছে আমিরাত সরকার। যেসব যাত্রী ভ্রমণ করতে পারছেন না যতক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রীদের অবস্থান বাড়িয়ে দিতে স্থানীয় হোটেলগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগ। অতিরিক্ত থাকার পুরো খরচ বহন করবে আবুধাবির সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলার জবাবে ইরান নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে আবুধাবি ও দুবাই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুবাই ও আবুধাবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাতিল ফ্লাইটের কারণে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। অনেকেই বিমানবন্দরে রাত কাটাতে বাধ্য হন।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিভন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। এর জবাবে ইরান তেল আবিব এবং অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালায়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রথম দিনেই তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, খামেনির মৃত্যু ছিল ‘মাসের পর মাসের গোয়েন্দা পরিকল্পনার ফল’।
গত ৭২ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের হামলার মাত্রা ও তীব্রতা বেড়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাধারণ মানুষের জীবনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
আমারবাঙলা/এসএ