জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসবের কাছাকাছি এলাকায় গাড়ি হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর হামলার সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি অতীতে উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে নজরদারিতে ছিলেন।
শনিবার রাতে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের কাছের টিয়ারগার্টেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ইউরোপের অন্যতম বড় এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) আয়োজন ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’-এর অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি।
গাড়ি তুলে দেওয়া হয় পথচারীদের ওপর
পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একটি মিনিভ্যান দিয়ে পথচারীদের ওপর আঘাত করা হয়। এতে একজন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতেও আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং হামলাকারীকে খুঁজতে অভিযান শুরু করে।
অভিযানে পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন
বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, পরদিন শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় স্পান্ডাউ এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার সময় তার হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালানো হয়। পরে জরুরি চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
উগ্রপন্থার অভিযোগে তদন্ত
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি অতীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও উগ্রপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে ছিলেন।
তিনি জানান, তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য মতাদর্শগত প্রভাব খতিয়ে দেখছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে।
স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার বার্তা চ্যান্সেলরের
ঘটনার পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ দেশের নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জার্মানি তার উদার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
বার্লিনে আয়োজিত স্মরণসভায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। অনেকে রংধনু পতাকা হাতে প্রতিবাদ ও সংহতি প্রকাশ করেন। টিয়ারগার্টেন এলাকায় নিহত ব্যক্তির স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো হয় এবং ফুল দেওয়া হয়।
কঠোর পদক্ষেপের দাবি
ঘটনার পর জার্মানির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছে। কয়েকজন রাজনীতিক উগ্রবাদ মোকাবিলায় কঠোর নীতির আহ্বান জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এর আগে কারাগার বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন এবং গোয়েন্দা সংস্থার নজরেও ছিলেন।
অভিবাসন ও নিরাপত্তা বিতর্ক আরও তীব্র
বার্লিনের এই হামলা জার্মানিতে নিরাপত্তা, অভিবাসন ও উগ্রবাদ মোকাবিলা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমাগম এলাকায় গাড়ি ব্যবহার করে হামলার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া ও ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সহযোগী এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো দুর্বলতা ছিল কি না—এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স