বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং সমুদ্রবন্দরগুলোতে বাড়ছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শঙ্কা। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং ভারতের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা
আবহাওয়া অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
নৌযান চলাচলে সতর্কতা
আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে সাগরে অবস্থানরত ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই জেলেদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জেনে নিরাপদে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের গতিপথ ও শক্তি পরিবর্তনের ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী উন্নতি বা অবনতি নির্ভর করবে। তাই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।