সংগৃহিত
পরিবেশ

বিতর্কিত ইউক্যালিপটাস কি শুধুই ক্ষতিকর?

নুসরাত জাহান ঐশী: সম্প্রতি জলবায়ুর পরিবর্তন ও তীব্র তাপপ্রবাহের জেরে ইউক্যালিপটাস গাছের ক্ষতিকর দিকগুলো সবার সামনে উঠে এসেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। যার বদৌলতে গাছটির অনেক নেতিবাচক দিক নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে।

ইউক্যালিপটাস গাছ স্থানীয়ভাবে আকাশমণি নামে পরিচিত। সৌন্দর্য বর্ধন, বনায়ন ও মূল্যবান কাঠের জন্য ১৯৬০ সাল থেকে বাংলাদেশে মূলত পথতরু হিসেবে এ গাছ রোপিত হয়ে আসছে।

গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Eucalyptus obliqua। এর ৫০০ থেকে ৮ শতাধিক প্রজাতি আছে বলে মতভেদ রয়েছে। লম্বা ও মসৃণ কাণ্ড বিশিষ্ট ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা খুবই চিকন ধরনের হয়, যা রোদে ছায়া সৃষ্টি করতে পারে না।

অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত গাছটি লোকালয় এবং কৃষি জমির জন্য অসুবিধার কারণ হলেও এর যে একেবারেই কোনো উপকারী দিক নেই, তা কিন্তু নয়। আজকে ইউক্যালিপটাস গাছের কিছু উপকারিতা সম্পর্কে জানবো।

পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে আকাশমণি গাছ। দ্রুত বর্ধনশীল এ গাছের কাঠ বেশ মজবুত ও মূল্যবান। ফলে এর ক্ষতিকর দিক জেনেও অনেকে আর্থিক লাভের আশায় এ গাছ রোপণ করে থাকেন। এ গাছের কাঠ জাহাজ নির্মাণ ও কাগজ তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।

এর বাকল থেকে এক ধরনের তেল পাওয়া যায়, যা ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ তেল মসলা ও সুগন্ধি তৈরির কাজেও ব্যবহার করা হয়। সর্দি সারাতেও সাহায্য করে এ তেল।

এ গাছের পাতা কাশি, ক্ষত ও আলসার নিরাময়ে কাজ করে। মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে বলে ইউক্যালিপটাস মাউথওয়াশ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। এ গাছের পাতায় থাকা টক্সিন থেকে মশা বা বিভিন্ন কীটপতঙ্গ নাশক তৈরি হয়।

গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ইউক্যালিপটাস গাছ যতটুকু উঁচু হয় তার শিকড়গুলো মাটিতে ততদূরে চতুর্দিকে ছড়িয়ে যায়। ফলে এ গাছ ভূমিধস রোধে সাহায্য করে। কষ্টসহিষ্ণু এ গাছ দাবানলের আগুনে পোড়ার পর পুনরুত্থিত হতে সক্ষম।

অযত্নে বেড়ে উঠতে পারে ইউক্যালিপটাস গাছ। আবহাওয়াগত অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এ গাছ প্রায় সব মহাদেশেই দেখতে পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গেছে, অন্যান্য গাছের মতো ইউক্যালিপটাস পরিবেশের জন্য তেমন উপকারী নয়। বরং উল্টো অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ গাছ অতিরিক্ত পানি শোষণ করার ফলে মাটির উর্বরা কমিয়ে ফসলি জমির ক্ষতি করে। এছাড়া দূষিত বাতাস নির্গমন করায় মানুষের শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া ও গুগল।

এবি/এইচএন

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সব বাধা অতিক্রম করে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় সরক...

সাংবাদিক কেএম বাচ্চু নৃশংস হামলার শিকার

কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর কুয়াকাটা প্রতিনিধি, পরিবেশ ও পর্যটনকর্মী সাংব...

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় সিজেপি

কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের আগে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে ভা...

বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত

সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত...

ইয়েমেনের বন্দরে সৌদির হামলা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে যাচ্ছে।ইতিমধ্যেই...

পোকার বিতর্কের জবাব, জোড়া গোলে নেইমার

বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়া, শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের বিদায় এ...

হাম উপসর্গে আরও মৃত্যু ৬ শিশুর, মোট মৃত্যু ৮১৬

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে...

জাতিসংঘে গৃহীত বাংলাদেশের ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ প্রস্তাব

সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্...

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌ প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ নৌ...

ভর্তি বন্ধের নির্দেশ ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

দেশের ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দি...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা