ছবি: আমার বাঙলা
সারাদেশ

রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসে ক্যাম্পে নানা কর্মসূচি, প্রত্যাবাসনের দাবিতে সমাবেশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

আজ ২৫ আগস্ট, নবমবারের মতো পালিত হচ্ছে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও স্মরণ দিবস। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা প্রতিবছরের মতো এবারও নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

দিবসটি উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমাবেশ, র‌্যালি, আলোচনা সভা ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ২০১৭ সালের সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি মিয়ানমারের নিজ ভূমিতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতাদের ভাষ্য, তারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না। মিয়ানমারে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ এবং জমি-বাড়ির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হলে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের শেষদিকে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর রাখাইনের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাত অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (UCR)-এর নেতারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ জন্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বয়ে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

রোহিঙ্গা নেতাদের মতে, শুধু সীমান্তের ওপারে মানুষ পাঠিয়ে দিলেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে না। প্রত্যাবাসনের আগে রাখাইনে চলমান সংঘাত বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ, জমি-বাড়ির অধিকার এবং নাগরিকত্বসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারাও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও স্মরণ দিবসের এবারের কর্মসূচিতেও একই দাবি জোরালোভাবে উঠে এসেছে—নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।

আমার বাঙলা/ রাব্বি

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মহারাষ্ট্রের হাসপাতালে ৩ নবজাতকের মৃত্যু

ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর একটি সরকারি হাসপাতালে আগুন লেগে তিন নবজাতকের মৃত...

গিনিতে ময়লার স্তূপ ধসে ৩০ জনের মৃত্যু

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনিতে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা...

জনতা ব্যাংকে অ্যাসেট-লায়াবিলিটি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

সোমবার (২৪ আগস্ট) জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ে অ্যাসেট-লায়াবিলিটি ম্য...

রংপুরে ৪ হত্যার ময়নাতদন্তে নতুন তথ্য

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান...

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে ৪৪০ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ জ...

পিরোজপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

পিরোজপুর পৌরসভার ব্রাহ্মণকাঠি এলাকায় এক কুয়েতপ্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির...

রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসে ক্যাম্পে নানা কর্মসূচি, প্রত্যাবাসনের দাবিতে সমাবেশ

আজ ২৫ আগস্ট, নবমবারের মতো পালিত হচ্ছে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও স্মরণ দিবস। ২০১৭ সাল...

গ্যাস সংকটে বন্ধ কাজ, ঋণে পিষ্ট শ্রমিক

চাকা নেই, তাই টাকা নেই’—শিল্পকারখানার উৎপাদন চাকা থেমে যাওয়ায় এ...

২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন প্রা...

অর্থের প্রলোভনে অভিনেত্রীকে কুপ্রস্তাব

অভিনয়শিল্পীর মূল দায়িত্ব ক্যামেরার সামনে নিজের চরিত্রকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা