ইয়াবা ব্যবসা ও নানা অপরাধের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এলাকাবাসীর
হাটহাজারী প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নন্দীরহাট এলাকায় ‘তালিকাভুক্ত’ ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত জুয়েল প্রকাশ একাইত্তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চুরি-ছিনতাই, জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এলাকায় মাদকের আধিপত্য বিস্তার করেন জুয়েল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে তিনি আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর জুয়েলের নেতৃত্বে নন্দীরহাট এলাকায় মাদকের আসর বসে। মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে জুয়েল ও তার সহযোগীরা হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জুয়েল এর আগে মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ তাদের। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
সম্প্রতি জুয়েলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। গত ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ ইব্রাহীম, মোহাম্মদ কাশেম মিয়া, মো. সুজন, মো. রায়হান ও হারুনুর রশীদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এলাকাবাসীর পক্ষে এসব অভিযোগ করেন এবং জুয়েলকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ৮ জুলাই বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ জুয়েলকে ৪ হাজার ৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা হয়, যার নম্বর ১৯/২৬৫। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে জুয়েল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জায়গা-জমি দখলেরও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ করলে মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও পূর্বের মাদক মামলার তথ্য থাকার পরও তিনি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারায় তারা উদ্বিগ্ন। দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জুয়েলকে গ্রেফতার করা না হলে মাদকবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের জন্য নিয়মিত অভিযান চলছে। জুয়েলকে ধরার জন্যও পুলিশ চেষ্টা করছে। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগগুলোর বিষয়ে জুয়েলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো তদন্ত করে মাদক ব্যবসা ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।