নেত্রকোনার মদনে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তির সঙ্গে এক যুবকের বিয়েকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮ আগস্ট মদন পৌরসভার কান্দাপাড়া গ্রামের মনির হোসেন (৩০) ও খালিয়াজুরী উপজেলার নূরপুর ইউনিয়নের বোয়ালি গ্রামের রানা মিয়া ওরফে রানীর মধ্যে বিয়ে হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নেত্রকোনা আদালত এলাকার একটি আইনজীবীর কার্যালয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর রানী মদনের কান্দাপাড়ায় মনির হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এদিকে বিয়ের খবর জানার পর মনিরের আগের স্ত্রী সিমা আক্তার দুই সন্তানকে স্বামীর বাড়িতে রেখে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মনিরের পরিবারের দাবি, আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করে তাকে এ বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছে। মনিরের মা অভিযোগ করেন, তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন সদস্যের মাধ্যমে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানোর কথা বলে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছে।
তবে পরিবারের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রানী। তার দাবি, মনিরের কাছে তিনি টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মনির নিজেই নেত্রকোনায় গিয়ে তাকে বিয়ে করেছেন।
মদন হিজড়া সমিতির সভাপতি সানা মিয়া বলেন, মনির হোসেন ও রানীর বিয়ে নেত্রকোনায় একজন আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
মনিরের প্রথম স্ত্রী সিমা আক্তার বলেন, এ বিয়ের ঘটনায় তার সংসার ভেঙে গেছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কান্দাপাড়া এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গের বেশ কয়েকজন মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন করিম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চললেও বিয়েটির আইনগত বৈধতা এবং সংশ্লিষ্টদের করা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি