বিশ্বকাপসহ ফিফার সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসিসহ বিভিন্ন মহল জোরালো অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত বিরোধিতার মুখে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন ফিফা প্রধান।
তবে প্রস্তাব প্রত্যাহার করলেও ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসেনি উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের মতো সংগঠনগুলো। অন্যদিকে আফ্রিকার ফুটবল ফেডারেশন ও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মতো কয়েকটি সংগঠন এখনো ফিফা সভাপতির পাশে রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে একের পর এক অভিযোগ ও সমালোচনার মুখে থাকা ইনফান্তিনোর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু সমর্থন জানানোই নয়, ফিফাকে সরাসরি সতর্কও করেছেন তিনি।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্দেশে নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবাও ফিফার জন্য বড় ভুল হবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ফিফা যদি কোনো কারণে প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথাও ভাবে, তবে তারা একটি মারাত্মক ভুল করবে। তিনি অসাধারণ, যিনি সদ্যই সর্বকালের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপের সভাপতিত্ব করেছেন। তিনি চলে গেলে, এটি আর কখনও এতটা সফল বা লাভজনক হবে না! এই বিষয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ। প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।’
গত কয়েক বছর ধরে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিশেষ ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্পের ফোনকলের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার বালোগানের লাল কার্ড স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
সবশেষে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব ট্রাম্পের জামাতার ভাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন সুইস এই ফুটবল প্রশাসক। এ নিয়ে ফিফার অভ্যন্তরে ও বিভিন্ন কনফেডারেশনের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ।
আমার বাঙলা/ রাব্বি