প্রতি মণ ধানের দাম ১৫০০ টাকা নির্ধারণ, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ধান ক্রয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রয়কেন্দ্র চালু, হাটবাজারে খাজনার তালিকা প্রদর্শন, বাজারে ধলতা নেওয়া বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং শস্য বীমা চালুসহ আট দফা দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের লাড়িবাড়ী বাজারে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কালুখালী ও পাংশা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রায় দুই শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মো. তোফাজ্জেল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আব্দুস সামাদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল, পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খাঁ, পাংশা উপজেলার পুঁইজোর গ্রামের কৃষক জাকির মিয়া, কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের কৃষক মনোয়ার, মাসেম বিশ্বাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কৃষক রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে ফসল ফলায়। কিন্তু সেই ফসল বাজারে নিয়ে গেলে ন্যায্য দাম মেলে না। এখন বোরো ধানের মৌসুম চলছে। বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম মাত্র ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। অথচ উৎপাদন খরচ এর চেয়েও বেশি। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
তারা আরও বলেন, সরকার যে ধান ক্রয় করে, সেখানে প্রকৃত কৃষকরা ধান দিতে পারেন না। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের লোকজন সেখানে ধান বিক্রি করে সুবিধা নেয়। তাই কৃষককে বাঁচাতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারকে ধান কিনতে হবে।
বক্তারা জানান, দেশের শীর্ষ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে রাজবাড়ী অন্যতম। কিন্তু সেই পেঁয়াজ চাষিরা আজ পুঁজি হারাচ্ছেন। পেঁয়াজ তোলার এক মাসের মধ্যেই পচন ধরেছে। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা যাচ্ছে না। উপরন্তু ধলতার অজুহাতে বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ কেনা বন্ধ রাখছে ব্যবসায়ীরা।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করেন কৃষকরা।
আমার বাঙলা/আরএ