পাঁচ বছর পর আপনাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতেও হবে না। জনগণ নিজেরাই বলবে—আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি এমনই কথার মাধ্যমে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভার আলোচনায় ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি বক্তব্য দেন।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা বিএনপির নেতৃবৃন্দ নিয়ে আগামী ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকালে নরসিংদীর রায়পুরায় টান মরজালে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি।
অনুষ্ঠানে রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল তিনি বক্তব্য বলেন,জনগণ আমাদের পাঁচ বছর সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা যদি সুন্দরভাবে মানুষের সেবা করতে পারি, তাহলে আগামী পাঁচ বছর আপনাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতেও হবে না। জনগণ নিজেরাই বলবে—আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।
আমরা তো হিসাব করে চলি। ব্যবসায়ীরা হিসাব করে চলে—আয় বেশি হলে বেশি খরচ করে, আয় কম হলে কম খরচ করে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে আয় করে চলার মতো ইচ্ছা আর শক্তি আমাদের নেই।
আমরা ব্যবসা করি, পাশাপাশি রাজনীতি করি। আমি বিদেশে পাঁচ বছর চাকরি করেছি এবং আয় করে দেশে এসে আবার ব্যবসা শুরু করেছি, পাশাপাশি রাজনীতিও করছি।
আজ পর্যন্ত আপনারা আমাকে নিয়ে যেভাবে গর্ব করেন, সেই গর্বের জায়গা থেকে আমাকে কোনো দিন এক পয়েন্টও কমাতে পারবেন না; বরং আরও বেশি গর্ব করতে পারবেন।
সেজন্য আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে—আপনারা আমাকে ভরসা করেন। আপনারা যাচাই করে দেখেন; সিলেট, খুলনা, বরিশালসহ সারা বাংলাদেশে যেখানে আমার নাম শুনেছে, সেখানে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে দেখেন। আপনারা আমার সম্পর্কে যা জানেন, তারাও হয়তো আরও ভালো জানেন।
এই বিশ্বাসের জায়গাটা ঠিক রাখতে গেলে আমি একা সবকিছু চালাতে পারব না। আমি যদি চল্লিশটা ইউনিয়নের দায়িত্ব ঠিক করে দিই, সেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ের পার্টি ও অন্যান্য দায়িত্বও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে হবে। কোনো ইউনিয়নে কেউ প্রতিদিন খারাপ কাজ করলে তার দায় শেষ পর্যন্ত আমার ওপরও আসবে।
কাজেই আমরা যখন দায়িত্ব দেব, আপনারা দয়া করে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সিলেকশনে ভুল করবেন না। তাহলে আমাদেরও পরে কষ্ট পেতে হবে না।
আমরা চাই, সবাই মিলে এমনভাবে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী নির্বাচন করি, যাতে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকার সমস্যা সমাধান করা যায়।
আজকে যদি কোনো রাস্তার প্রয়োজন হয়, কোনো এলাকার সমস্যা থাকে, মেম্বারদের দায়িত্ব হচ্ছে সেগুলো খেয়াল রাখা। আগে অনেকের নজর ছিল না; তারা ভাগাভাগির রাজনীতি করেছে, বিভিন্ন কার্ড ও সুবিধা নিজেদের মধ্যে ভাগ করেছে। কিন্তু আমরা সেটা করতে চাই না।
এলাকা সুন্দর করতে হলে, মানুষের জন্য মানবিকভাবে কাজ করতে হলে, সৎভাবে কাজ করতে হবে। কোন মানুষকে কোন দায়িত্ব দিতে হবে, সেটা বুঝে করতে হবে।
আমাদের মধ্যে ভালো লোকের সংখ্যা অনেক। এখন বাছাই করে একজনকে দায়িত্ব দিতে হবে। আগামীতে আরেকজন সুযোগ পাবে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে। এই ব্যবস্থাপনাটা আপনাদেরই করতে হবে এবং সহ্য করতে হবে।
দেখা যাবে চেয়ারম্যান প্রার্থী তিনজন বা চারজন আছেন। কিন্তু চারজনের মধ্যে তো একজনকেই আসতে হবে। হয়তো একজন এবার সুযোগ পাবেন, আরেকজন পরেরবার পাবেন। সবাইকে একসঙ্গে সবকিছু দেওয়া সম্ভব নয়।
এখন থেকে বাছাই করে এমন একজনকে দিতে হবে, যিনি সবচেয়ে যোগ্য, যিনি আমাদের নেতৃত্ব দিতে পারবেন এবং জনগণের কাছে বেশি জনপ্রিয় হতে পারবেন। অনেক কিছু যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমাদের টিমগুলো আগে ঠিক করতে হবে। আগে যেমন সেন্ট্রাল কমিটি ছিল, সেই সেন্ট্রাল কমিটিগুলোও আবার সঠিকভাবে গঠন করতে হবে। প্রত্যেক সেন্টারে যারা ভালো কাজ করেছে, দায়িত্ব দেখিয়েছে, তাদেরও মূল্যায়ন করতে হবে।
আমি চাই, এবার প্রত্যেক জায়গায় রাজনীতিকে রাজনীতির মতো করে পরিচালনা করা হোক। উপজেলা কমিটিতে প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্টরা জানাবেন। আমার প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে কমিটি থাকবে।
আমি যে সাহস করে কথাগুলো বললাম, তার কারণ হচ্ছে—কাজটা এমনভাবে করতে হবে, যাতে দক্ষতা, সহযোগিতা ও মানবিকতার সঙ্গে আমরা সবাই সুন্দরভাবে কাজ করতে পারি।
আপনাদের সবার জন্য আমার এই আহ্বান রইল।
মনে রাখবেন, জনগণ আমাদের পাঁচ বছর সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা যদি সুন্দরভাবে মানুষের সেবা করতে পারি, তাহলে আগামী পাঁচ বছর আপনাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতেও হবে না। জনগণ নিজেরাই বলবে—আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।
আমি চাই, এমনভাবে কাজ করতে যাতে আগামীতে ঘুরে ঘুরে বাড়ি বাড়ি না যেতে হয়। আপনারাই তখন বলবেন, আমরা তাদের সঙ্গেই থাকব।
আপনারা যদি ভালো কাজ করেন, তাহলে মেম্বার হিসেবে পাস করাও সহজ হবে। যে প্রতিষ্ঠান বা এলাকার দায়িত্ব আপনি পালন করবেন, সেখানে ভবিষ্যতের লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করতে হবে।
প্রার্থী যদি শতভাগ কাজ করতে না-ও পারে, তারপরও আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
যাক, আমি আর বেশি বক্তব্য দেব না। খাবারের সময় হয়ে গেছে।
দোয়া করবেন, যাতে এই সততার জীবন নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে পারি এবং আপনাদের প্রত্যেক মানুষের জীবনের পাশে দাঁড়াতে পারি।
আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি—মানুষ আমাদের এত শ্রদ্ধা করে, যা আমি অনেক সময় কল্পনাও করতে পারি না।
১৫ বছরের মামলা, ১০ বছরের মামলা, ৭ বছরের মামলা—আমরা সমাধান করতে পারছি। এর একটাই কারণ, আমাদের যারা দায়িত্বে আছেন তারা যেন সততার সঙ্গে থাকতে পারেন।
সততার কারণে মানুষ আমাদের সম্মান করে।
আমাদের সমাজে অনেক পুরোনো বিরোধ আছে। দেখবেন, কোনো জমি বা সম্পত্তি ১৯৭৮ সালে একজনের কাছে বিক্রি হয়েছে, আবার পরবর্তী সময়ে একই সম্পত্তি আরেকজনের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। এ ধরনের বিরোধ থেকেই অনেক দুর্ঘটনা ও মামলা সৃষ্টি হয়।
আমরা যদি সত্য ও সততার সঙ্গে বিচার করি, তাহলে প্রকৃত বিষয়টা বের করতে পারি।
আপনাদের যার যত সমস্যা আছে, এখনো কমপক্ষে এক হাজার মামলা আছে। এগুলো আমরা ধীরে ধীরে নিষ্পত্তি করব। অনেক জরুরি মামলাও আছে। আমি জানি, আপনারা আমার প্রতি বিশ্বাস রাখেন।
কেউ ভাববেন না, আমরা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেব।
প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে আমরা বিচারক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি ঠিক করব এবং সামনে গ্রাম সরকারও গঠন করব।
গ্রামে যদি কার্যকর গ্রাম সরকার থাকত, মুরুব্বি ও দায়িত্বশীল মানুষ থাকতেন, তাহলে ছোটখাটো বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়াত না। গ্রামের মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে যেত।
কিন্তু তা না হওয়ায় অনেক সময় আপনারা ছোট বিষয় নিয়ে মারামারি করেন, মানুষের গায়ে আঘাত করেন, পরে মামলা হয় এবং হয়রানিতে পড়েন। এর কোনো প্রয়োজন নেই।
সমস্যা হলে এলাকার দায়িত্বশীল মানুষদের নিয়ে বসে নিষ্পত্তি করেন। বাড়াবাড়ি করবেন না—আমি আন্তরিকভাবে বলছি।
আমাদের অভিযান চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে প্রত্যেক উপজেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চলবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পুলিশও প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো সময় প্রয়োজন হলে তারা চলে আসবে।
কয়েকটি স্পট রয়েছে, যেখানে সবাইকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। যারা রাতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা করেন, তাদের আমরা তালিকাভুক্ত করছি।
আমরা প্রত্যেকটা বিষয় নজরে রাখছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী করছি।
সামনে দেখবেন, পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সন্ত্রাসীদের জন্য কোনো নিরাপদ আস্তানা থাকবে না।
আমি অনুরোধ করব, যত সন্ত্রাসী আছে—তাদের ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবেন।
অনেক সময় আমরা খেলার মাঠে বা কোনো অনুষ্ঠানে যাই। হঠাৎ একজন এসে পাশে বসে, আরেকজন সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। আমরাও অনেক সময় অপ্রস্তুত থাকি। পরে সেই ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হয়।
তাই এ ধরনের বিষয়েও সবাই সতর্ক থাকবেন।
আমি গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের বিএনপির কোনো দুর্নাম যেন না হয়—এটা আমাদের দায়িত্ব। আমার দলের কেউ যদি মাদক বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাকেও আইনের আওতায় যেতে হবে।
মাদক ব্যবসা করে কী লাভ? এই জীবনের কি কোনো দাম নেই? টাকা-পয়সা করে কী করবেন, যদি সেই ব্যবসার কারণে একটি এলাকার লাখ লাখ মানুষের ক্ষতি হয়?
মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে পুলিশ আইনের আওতায় এনে বিচার করবে, ইনশাল্লাহ।
আপনারা আপনাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন, যেন তারা মাদকে আসক্ত না হয়।
আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে—আমরা মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারছি এবং এই দল দেশকে ভালোবাসে।
মনে রাখবেন, কাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কেউ কিছু করতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।
[জামায়াত ও রাজনৈতিক বক্তব্যের কিছু অংশ মূল লেখায় অত্যন্ত অস্পষ্ট ছিল।]
আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বলছি, আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে আমরা গর্ব করে বলতে পারি। ইনশাল্লাহ, আগামী নির্বাচনে আমরা চারদিকে বিজয় অর্জন করতে পারব।
সবাই আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য এখন থেকেই মাঠে-ঘাটে কাজ করেন।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
ইনশাল্লাহ, ১ সেপ্টেম্বর আমরা উপজেলা পর্যায়ে জমায়েত হব। সেখান থেকে সবাই একসঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সকাল ১১টা থেকে আমরা প্রস্তুত থাকব।
প্রত্যেক এলাকা ও ইউনিয়ন থেকে কে কত মানুষ নিয়ে এসেছে, সেগুলোও দেখা হবে। সবাই নিজ নিজ এলাকার মানুষকে সংগঠিত করে কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সততা, মানবিকতা ও মানুষের সেবার মাধ্যমে কাজ করার তাওফিক দান করুন।
আমার বাঙলা/আরএ