চশমা এখন শুধু দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দূর করার উপায় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ব্যবহারের পাশাপাশি রোদ, ধুলা-বালি ও বাতাস থেকে চোখকে সুরক্ষা দিতেও অনেকে চশমা ব্যবহার করেন। তবে নিয়মিত ব্যবহারের ফলে লেন্সে ধুলা, দাগ কিংবা আঁচড় পড়তে পারে। এতে দৃষ্টিতে অস্বস্তির পাশাপাশি আলোতে ঝলকানি এবং চোখে চাপ অনুভূত হতে পারে।
চশমার লেন্সে আঁচড় পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ভুলভাবে পরিষ্কার করা। জামা, রুমাল, টিস্যু কিংবা কাগজ দিয়ে লেন্স মুছলে এসব উপকরণের রুক্ষ তন্তু লেন্সের পৃষ্ঠে সূক্ষ্ম আঁচড় তৈরি করতে পারে। আবার লেন্সে জমে থাকা ধুলাবালি না সরিয়ে সরাসরি ঘষলেও একই ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া চশমা অসাবধানভাবে রাখা কিংবা শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে ঘষা লাগলেও লেন্সে আঁচড় পড়তে পারে।
বর্তমান সময়ের অনেক চশমার লেন্সে অ্যান্টি-রিফ্লেকশন, ইউভি সুরক্ষা কিংবা অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক কোটিং থাকে। এসব লেন্সে বেকিং সোডা, টুথপেস্ট, তেল বা অন্য কোনো ঘষামাজা উপাদান ব্যবহার করলে কোটিং নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ঘরোয়া এসব পদ্ধতি থেকে দূরে থাকাই ভালো।
লেন্স পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রথমে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুলাবালি ধুয়ে নেওয়া উচিত। এরপর চশমার লেন্সের জন্য উপযোগী ক্লিনার এবং পরিষ্কার মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে। লেন্স শুকনো অবস্থায় জোরে ঘষা ঠিক নয়। কারণ লেন্সে থাকা ধুলার কণা ঘর্ষণের ফলে নতুন আঁচড় তৈরি করতে পারে।
ছোটখাটো আঁচড় দূর করার জন্য অনেকে বেকিং সোডার পেস্ট বা সাধারণ টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে এসব উপাদান ঘর্ষণকারী হওয়ায় লেন্সের কোটিংয়ের ক্ষতি করতে পারে। সাময়িকভাবে আঁচড় কম দৃশ্যমান মনে হলেও এতে লেন্সের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই কারণে গাড়ির কাচের পলিশ, বেবি অয়েল বা পেট্রোলিয়াম জেলিও চশমার লেন্সে ব্যবহার না করাই ভালো।
লেন্সে গভীর আঁচড় পড়লে ঘরোয়া উপায়ে তা দূর করার চেষ্টা না করে অপটিশিয়ান বা চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে লেন্স পরিবর্তন করাই হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান।
চশমা দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট কেসে রাখা, লেন্স পরিষ্কারে মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার এবং ধুলাবালি জমলে পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। এতে লেন্সের ক্ষতি কমার পাশাপাশি দৃষ্টিও পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি