সার্বিয়ার বিরুদ্ধে কসোভোর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত কসোভো স্পেশালিস্ট চ্যাম্বার্স (কেএসসি) আজ বুধবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।
৫৮ বছর বয়সী হাশিম থাচির বিরুদ্ধে নব্বইয়ের দশকে কসোভো লিবারেশন আর্মি বা কেএলএ (KLA)-র শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খুন, নির্যাতন এবং বেআইনি আটকের মতো সুনির্দিষ্ট চারটি কাউন্টে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতের বিচারক চার্লস স্মিথ রায় পড়ার সময় থাচি শুনানির কাঠগড়ায় স্যুট-টাই পরে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অবশ্য শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কসোভো যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সার্বীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আঁতাতকারী সন্দেহে ৯৬ জনকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি দায় রয়েছে থাচির।
এই মামলায় হাশিম থাচি ছাড়াও কেএলএ-এর আরও তিন সাবেক শীর্ষ কমান্ডারকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে জাকুপ ক্রাসনিকিকে ২৫ বছর, কাদ্রি ভেসেলিকে (কারাগারে কাটানো সময়সহ) ১৮ বছর এবং রেজেপ সেলিমিকে (কারাগারে কাটানো সময়সহ) ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এদিকে এই রায় ঘোষণার পর কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির বহু মানুষ হাশিম থাচি ও কেএলএ-কে স্বাধীনতার বীর ও শ্রদ্ধেয় হিসেবে বিবেচনা করায় রায়ের খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বড় পর্দায় সরাসরি রায় দেখার সময় হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে কেএলএ ও থাচির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আমার বাঙলা/রাজীব