খেলা

মরু বিজয়ের কেতন বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রোধের তাপ, নাকি শ্রান্তির সৌন্দর্যধারা– কে জানে, জয়ের পর কিছুক্ষণের জন্য প্রাণপণ সংযমে দাঁড়িয়ে রইলেন লিটন দাস। একটা প্রশান্তি, বুক থেকে বড় একটা পাথর নেমে যাওয়ার হালকা অনুভব। আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছেন নাসুম-তানজিদরা। মরুতে বিজয়ের কেতন উড়িয়ে এখন শুধুই অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান যদি হেরে যায় শ্রীলঙ্কার কাছে, তাহলেই দুবাইয়ে পরের রাউন্ডে রওনা দেবেন লিটনরা। আর আফগানিস্তান জিতে গেলে রানরেটের একটা অঙ্ক থাকবে, তবে সেখানে ০.২৭০ নিয়ে বেশ কাঁচা অবস্থায় আছে টাইগাররা।

এদিন আফগানদের কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কৌশল নিয়েছিল বাংলাদেশ। স্পিন শক্তির দলকে স্পিন দিয়েই ঘায়েল করতে হবে ধরে নিয়ে একাদশে স্পিনার নাসুমকে রাখা হয়। গেল কিছুদিনের বিভিন্ন ঘটনায় তাঁর মধ্যে যে জেদের আগুন জ্বলছিল, সেটাই বোধ হয় বিস্ফোরণের মতো আছড়ে পড়ে আফগানদের ওপর। প্রথম বলেই আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহকে এলবি করার পর ইব্রাহিম জাদরানকেও একই ফাঁদে ফেলেছিলেন। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৭ রান দিয়ে নাসুমের ২ উইকেট শিকার ব্যাটিংয়ের শেষ দিকে কাঙ্ক্ষিত রান তুলতে না পারার অপরাধ বোধ থেকে মুক্ত করেছিল জাকের-হৃদয়দের। নাসুমের পর লেগস্পিনার রিশাদও সফলতা আদায় করে নেন। আফগান ব্যাটারদের মধ্যে ৩৫ রান করে ভয়ংকর হয়ে উঠতে যাওয়া গুরবাজকে ফেরান তিনি। ডাগআউটে পাঠিয়ে দিয়েছেন গুলবাদিন নায়েবকেও।


শুধু একটি জায়গাতেই দুর্বলতা ঢেকে রাখার প্রবল চেষ্টা ছিল লিটনদের। মেহেদী হাসানের মতো জেনুইন স্পিনার বসিয়ে লিটন ছক কষেছিল সাইফ ও শামীমের মতো পার্টটাইমার দিয়ে কাজ চালাতে। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। দুজনে মিলে চার ওভারে দিয়েছেন ৫৫ রান। ইনিংসের ১৪তম ওভারে সাইফকে যেভাবে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে আজমতউল্লাহ আতঙ্ক ছড়ান, তাতে গ্যালারিতে থাকা আফগান সমর্থকদের জন্য মাঠের ডিজে পখতুন মিউজিক বাজিয়ে দেন। কিন্তু তখনও লিটনের হাতে মুস্তাফিজের মতো কার্ড বাকি ছিল। শেষ দিকে মুস্তাফিজ আর তাসকিন মিলেই মিশন সম্পন্ন করেন।

এদিন ইনিংস বিরতির আগে কমেন্ট্রি বক্সের বাইরে দেখা হওয়া ওয়াসিম আকরামের কাছে জিজ্ঞাসা ছিল, বাংলাদেশ কি জিতবে আজ? আলাপে প্রশ্রয় পেয়ে প্রশ্নটি ছুড়ে দিতেই কৌশলী তিনি। ‘এই মাঠে উইনিং স্কোর কত?’ পাল্টা জিজ্ঞাসায় হাসি দিয়ে কমেন্ট্রি বক্সে ফিরে যান। প্রেসবক্সে এসে গুগল করে জেনে নেওয়া, এ বছর আবুধাবির এই মাঠে ইনিংসের গড় রান ১৭০ আর উইনিংয়ে গড় ১৮৬। কিন্তু এদিন শুরুটা ভালো হলেও শেষটাতে বাংলাদেশ দম ধরে রাখতে পারেনি। শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩৫ রান। ৫ উইকেটে সংগ্রহ ১৫৪। তবে বোলারদের একাগ্রতা আর সোহানের মতো অ্যাক্রোবেট ফিল্ডিংয়ের কারণে অবশেষে দেশের বাইরে প্রথমবারের মতো আফগান-বধ করা গেছে।

এদিন ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হলেও আক্ষেপ ছিল জাকের আলীর ১৩ বলে ১২ রানের ইনিংসটি নিয়ে। কাজ থেকে ছুটি নিয়ে যারা এদিন গ্যালারিতে বাংলাদেশের রং ছড়িয়েছিলেন, তাদেরও আফসোস করতে দেখা গেল তাওহীদ হৃদয়ের ২০ বলে ২৬ রানের ইনিংস দেখে।

ইনিংসের প্রথম চারটি বল সাইফ যখন ডট দেন, তখন আগের ম্যাচের সেই ভয়ংকর মুহূর্তগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছিল। এর মধ্যেই ব্যাটে বল লাগাতে না পেরে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ঝুঁকি নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত যে বলটি খাতা খুললেন, সেটিও ক্যাচ মিসের কারণে। প্রথম ১১টি বলের ৯টিতেই ডট খেলে চাপটা নিজের ওপর নিয়ে নেন সাইফ। ফারুকির ১৩৭ গতির বলগুলো খেলতে শুধু সাইফ নয়, তানজিদ তামিমকেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত তিনিও ফুট মুভমেন্ট কাজে না লাগিয়ে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বাউন্ডারির সন্ধান পান। আত্মবিশ্বাস কাজে লাগান ইনিংসের ওই তৃতীয় ওভারেই ফারুকিকে চার-চারটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে।

মনের বাঘটা তাড়িয়ে দেন তানজিদ; রশিদ খানও ইনিংসে প্রথমবারের মতো স্পিনার বের করেন। গাজনফারের ওই ওভারটিতে বিশাল একটি ছক্কা হাঁকান সাইফ উইকেট থেকে কিছুটা সরে এসে। তবে ওই ওভারটিতেই চারটি ডট দেন তিনি। প্রতিটি বলে এভাবে বাউন্ডারির খোঁজে থাকলেও সাইফের ব্যাটিং টেকনিক তাঁকে সাপোর্ট দিচ্ছিল না, যে কারণে স্ট্রাইকও রোটেড করতে পারছিলেন না। যেখানে পাওয়ার প্লেতে সাইফ ২৪ বল খেলার সুযোগ নেন, সেখানে তানজিদ পান মাত্র ১২ বল। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তানজিদ দুটি ছক্কায় ততক্ষণে ৩২। ৩১ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে গ্যালারি মাতিয়েছেন তিনি।

সুইপ করতে গিয়ে আউট হন সাইফ। ততক্ষণে অবশ্য বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ৬৩। আগের ম্যাচের তুলনায় এদিনের আবুধাবির স্কোরবোর্ড অবশ্যই গর্বিত। তবে লিটন টস জেতার পরেই বলেছিলেন, বাইশ গজে রান আছে। সে হিসাবে পাওয়ার প্লেতে বড্ড বেশি ডট খেলেছেন তাঁর ওপেনাররা। তার পরও ১২ ম্যাচ পর ওপেনিং জুটি থেকে ৫০ রান আসাটা স্বস্তি দিয়েছিল লিটনকে। যার রেশ ছিল ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত। তৃষ্ণার্ত পথিকের জল খুঁজে পাওয়ার মতো।

আমারবাঙলা/এফএইচ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

লামায় পাহাড় ধসে শিশুসহ নিহত ৫, আহত ইউপি সদস্য

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ১ শিশুসহ দুই পরিবার...

পাহাড়ে ধসে পড়ার আশঙ্কায় চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভবন

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় উপজেলা আজিজ নগরে টানা চার দিনের প্রব...

পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে সেতু নেই, দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের, দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুরের কাপাস...

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার সরবরাহের কাজ কর...

১০ স্টেশনে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে নদীর পানি, ঝুঁকিতে সিলেট-চট্টগ্রাম

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-...

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ...

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত...

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে...

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা জারি

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চলমান আলিম পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে...

মেট্রোরেলের কমলাপুর অংশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ প্রক...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা