মতামত
চাঁদাবাজির অদৃশ্য সাম্রাজ্যে মসিক নগরী

ফুটপাত দখলের উন্মুক্ত লুটপাট

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ফুটপাত-নগরের সবচেয়ে সাধারণ ও মৌলিক নাগরিক পরিসর। অথচ সেই ফুটপাতই আজ কার্যত আইনবহির্ভূত শক্তির নিয়ন্ত্রণে। ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে হাঁটার জায়গা নেই, কিন্তু অবৈধ দোকান বসানোর জায়গার অভাব নেই। প্রশ্ন উঠছে-রাষ্ট্রের চোখের সামনে এই দখলদারি কি নিছক অক্ষমতা, নাকি এটি দীর্ঘদিনের লালিত এক ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতার ফল?

হাঁটার অধিকার ছিনতাই, চাঁদার বাজার চালু ফুটপাতে দোকান বসানো এখন আর ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়; এটি একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার অংশ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট লোকের কাছে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পৌঁছাতে হয়-না দিলে উচ্ছেদের ভয়, হুমকি, কখনো প্রকাশ্য ভয়ভীতি। এই অর্থ রাষ্ট্র পায় না, নগর কর্তৃপক্ষের কোষাগারে যায় না-যায় এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের হাতে। ফলাফল একটাই-পথচারী কোণঠাসা, শিশু-বয়স্ক-নারী সবাই ঝুঁকির মুখে। দুর্ঘটনা বাড়ছে, জনভোগান্তি বাড়ছে, অথচ দায় নেওয়ার কেউ নেই। আইন আছে, প্রয়োগ নেই-এই সুযোগেই ফুলে-ফেঁপে উঠেছে সিন্ডিকেট

>>ময়মনসিংহ শহরে কার আইন চলছে?

>>ফুটপাত কি ক্ষমতাবানদের 'অনানুষ্ঠানিক রাজস্ব খাত'?

>> জনগণের সরকারের কাছে অসহায় নগরবাসী জানতে চায়।

আইন অনুযায়ী ফুটপাত দখল অবৈধ। তবু বছরের পর বছর ময়মনসিংহ নগরীর একই দৃশ্য চলতে থাকা প্রমাণ করে-আইন প্রয়োগে হয় চরম শৈথিল্য, নয়তো কোথাও গুরুতর গাফিলতি। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযানের নাটক দেখা যায়, কিন্তু কয়েকদিন পরই ফুটপাত আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে জনমনে স্পষ্ট ধারণা জন্মেছে-এই অভিযান আসলে সমস্যার সমাধান নয়, বরং সাময়িক প্রদর্শনী।

সুশীল ব্যক্তিদের মতে, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি, দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং কোথাও কোথাও অসাধু স্বার্থের উপস্থিতিই দারিদ্র্যকে পুঁজি করে এই চাঁদাবাজি ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে। গ্রাম থেকে কাজের আশায় আসা দরিদ্র মানুষদের সামনে বিকল্প খুব কম সেই বাস্তবতাকে ঢাল বানিয়ে তাদের বাধ্য করা হয় অনিয়মিত ব্যবস্থার অংশ হতে। যারা সবচেয়ে অসহায়, তারাই সবচেয়ে বেশি শোষিত হচ্ছে- এই চিত্র ময়মনসিংহ নগর জীবনের নীরব নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে।

নীরব দর্শক রাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ নাগরিক: সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়-এই পরিস্থিতি নতুন নয়। বছরের পর বছর একই অভিযোগ, একই ভোগান্তি, একই প্রতিবেদন। তবু কার্যকর পরিবর্তন নেই। এতে নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে-ফুটপাত কি তবে পথচারীর নয়? নাকি এটি ক্ষমতাবানদের 'অনানুষ্ঠানিক রাজস্ব খাত'? দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। নাগরিকরা নীরব থাকলে অন্যায় আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। কিন্তু দায় সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রের জনগণের সেবা সুরক্ষায় নিয়োজিত স্থানীয় প্রশাসনের। ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা, বৈধ লাইসেন্স ব্যবস্থা, নির্ধারিত হকার জোন এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সংকট সমাধান হবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেবল অভিযান নয়, স্থায়ী নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনের ভেতরে যদি কোথাও প্রশ্রয় বা গাফিলতির অভিযোগ থাকে, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজি কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়-এটি আইনের শাসন, সুশাসন ও নাগরিক অধিকারের সরাসরি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় স্থানীয় সরকার যতদিন স্পষ্ট অবস্থান না নেবে, ততদিন শহরের সবচেয়ে সাধারণ অধিকার নিরাপদে হাঁটার অধিকার-কেবল কাগজেই থেকে যাবে।

আমার বাঙলা/আরএ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্...

উন্নয়নের পথে কলাপাড়া

বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আলহ...

গভীর রাত পর্যন্ত খোলা দোকান

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় এখন...

আজ ইরান থেকে ফিরছে ২০০ বাংলাদেশী

ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন ফের...

জামায়াত ৭০% ভোট পেয়েও বিএনপির ইঞ্জিনিয়ারিং সব ওলট পালট করেছে

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম বলেছেন, এদেশে জনগণ গণভ...

ঈদের বিনোদনে ঢাকার স্পটসমুহ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে কর্মব্যস্ত ঢাকা নগরী অনেকটাই যানজটমুক্ত হয়ে প...

ফের কাতারে হামলা, ট্রাম্পের হুশিয়ারি

ইরান যদি কাতারে আবার কোনো হামলা চালায়, তবে দেশটির প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে ব...

শনিবারে ঈদুল ফিতর

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে শুক্রবার...

ফুটপাত দখলের উন্মুক্ত লুটপাট

ফুটপাত-নগরের সবচেয়ে সাধারণ ও মৌলিক নাগরিক পরিসর। অথচ সেই ফুটপাতই আজ কার্যত আই...

উন্নয়নের পথে কলাপাড়া

বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আলহ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা