সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম সংস্থা (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার ভোরে জানিয়েছে যে, ওমানের লিমা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকারের বাম পাশে অজ্ঞাত কোনো বস্তুকণার আঘাতে আগুন লেগে যায়; তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে সৃষ্ট সংঘাতের পর কূটনীতির জন্য সুযোগ তৈরি করার উদ্দেশ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও, এই হামলা ঘটল। এদিকে, স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রগতির কোনো প্রকাশ্য লক্ষণ ছাড়াই গত সপ্তাহে পরোক্ষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শেষ হওয়ার পর এই ঘটনাটি ঘটল।
সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর তেহরান যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নতুবা ‘কাজটি শেষ করে দেবে’।
‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আপনাদের ওপর হামলা চালাতে প্রস্তুত’, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে জাহাজগুলোকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে বলে সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের প্রাপ্ত একটি রেকর্ডিং উদ্ধৃত করে জানিয়েছে।
হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হলো আল রেকায়াত, যা কাতারের এলএনজি শিল্পের শিপিং শাখা নাকিলাতের মালিকানাধীন ও পরিচালিত একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ট্যাংকার বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। পত্রিকাটি আরও জানায়, জাহাজটির বাম পাশে ইঞ্জিন রুমের উপরের অংশে আঘাত হানা হয়েছে।
‘ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগেছে এবং ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে। আরও ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। সকল নাবিক নিরাপদে আছেন এবং জাহাজের ডান পাশে একত্রিত হয়েছেন’। একটি রেকর্ডিং থেকে উদ্ধৃত করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
আমার বাঙলা/ রাব্বি