কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম, এ শামিম আরজু কারাগারে পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ সকালে কুষ্টিয়া তিন আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী নিহতের ছেলে এস.এম ফুয়াদ শামীম এ মামলা দায়ের করেন। কুষ্টিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমলী আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি তদন্তের আদেশ দেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য কুষ্টিয়া সদর-মাহাবুবুল আলম হানিফ (৬২), সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা (৫৫), সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন (৫৪), সাবেক পুলিশ সুপার, তানভির আরাফাত (৫২) সাবেক সদর হাসপাতাল আর,এম,ও ডাঃ তাপস কুমার সরকার (৫০), সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান (৫০), সাবেক জেল সুপার জাকির হোসেন (৫০), সাবেক কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন (৫২), সাবেক পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু (৫০) সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর লিপন সরকার (৪৫), সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর কাজি মেহেদী হাসান (৪২) সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর সোহেলী আক্তার (৪০), কোর্টপাড়ার মৃত চাঁদ আলী মুক্তার আলীর ছেলে আবুল হাশেম (৭২) সাবেক কারারক্ষী লিমন হোসেন (৪২) মিরপুর উপজেলার তাঁতিবন্দ (চারমাইল বাজার বারুইপাড়া) মৃত নেহাল মন্ডলের ছেলে তারেক নেহাল তপে (৪৮)।
মামলা সূত্রে জানান যায় বাদীর পিতা এম.এ শামিম আরজু কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন কালে গত ২০১৯ সালের ২৬ মার্চে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে করে সকাল ১১ টার দিকে কুষ্টিয়া ডিসি অফিসে ২নং গেটের পাশে^ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা বাদীর পিতার ও বিএনপি নেতা কর্মীদেরকে চর্তুরদিক থেকে ঘেরে ধরে এবং সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতের নির্দেশে ১০/১৫ জন পুলিশ সদস্য অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। এতে পুলিশের নির্যাতনে কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও বাদীর পিতাসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীরা আটক হন। পরবর্তীতে বাদীর পিতার উপর পুলিশের নির্যাতন করার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনালে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ দিন পরে মারা যান।
এ ঘটনায় বাদী বলেন ২০১৯ সালের ২৬ মার্চে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে করে সকাল ১১ টার দিকে কুষ্টিয়া ডিসি অফিসে শহীদের সম্মান জানাতে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের হামলায় তার পিতা আহত হন। পরে তাকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে পুলিশের নির্যাতনে তার পিতা অসুস্থ অবস্থায় আদালতে নিয়ে যান। পরে আদালত তাকে জেলাকারাগারে প্রেরণ করেন। তার পিতার অবস্থা আরও আশংকাজনক দেখা দিলে হাসপাতালে নিলে বিনা চিকিৎসায় তার পিতা মারা যান। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবী জানান তিনি।
নুরুল কাদের, এ্যাডভোকেট, জজকোর্ট, কুষ্টিয়া বলেন কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম, এ শামিম আরজু কারাগারে পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সকালের দিকে কুষ্টিয়া তিন আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী নিহতের ছেলে এস.এম ফুয়াদ শামীম এ মামলা দায়ের করেন। কুষ্টিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমলী আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি তদন্তের আদেশ দেন।
আমার বাঙলা/আরএ