ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

‘সাবেক স্ত্রী’ বলাতে আপত্তি জানিয়ে মডেলের খোলা চিঠি

আমার বাঙলা ডেস্ক

১৬ বছর বয়সে বিয়ে, যেখানে কোনোরকম সম্মতি ছিল না কনের। বরং এই বিয়ে নামক রাজকীয় আয়োজন তার জীবনে নিয়ে এসেছিল নারকীয় নির্যাতন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে বেঁচেছিলেন ইন্দোনেশীয়-আমেরিকান মডেল মনোহারা ওডেলিয়া পিনট।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক খোলা চিঠিতে ফের সরব হলেন তিনি। জানালেন নিজের আপত্তির কথা।

২০০৮ সালে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের সুলতানের ছেলে টেংকু মুহাম্মদ ফাখরি পেত্রা যখন মনোহারাকে বিয়ে করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সম্প্রতি দেওয়া এক বিবৃতিতে ৩৩ বছর বয়সী মনোহারা স্পষ্ট করেছেন যে, সেই সম্পর্কটি কখনোই সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, আমার কৈশোরে যা ঘটেছিল তা কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল না, তা সম্মতির ভিত্তিতে হয়নি এবং সেটি কোনো আইনি বিয়েও ছিল না। আমি কখনোই এই সম্পর্কে স্বেচ্ছায় প্রবেশ করিনি।

বিয়ের পর তাকে মালয়েশিয়ার কেলান্তান প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি একপ্রকার কারাবন্দি জীবন কাটাতেন। মনোহারার অভিযোগ, তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হতো না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, যৌন হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতন ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা। তিনি বলেন, যৌন নির্যাতন ছিল রুটিনের মতো। প্রতিবার যখন আমি অনিচ্ছা প্রকাশ করতাম, তখনই নির্যাতনের শিকার হতাম।

গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মনোহারা গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর (গুগল ও উইকিপিডিয়া) প্রতি একটি কড়া আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাকে ‘সাবেক স্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

এক্ষেত্রে তার যুক্তি হলো- ‘সাবেক স্ত্রী’ শব্দটি ব্যবহার করলে মনে হয় যে, এটি একজন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতির ভিত্তিতে হওয়া কোনো বৈধ সম্পর্ক ছিল। যেহেতু তিনি তখন নাবালিকা ছিলেন এবং তাকে বাধ্য করা হয়েছিল, তাই সেই বিয়ে আইনি ভিত্তি রাখে না। এ ছাড়া এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে মূলত একজন নাবালিকার ওপর করা জবরদস্তি ও শোষণকে আড়াল করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে একটি পারিবারিক সফরে সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন মনোহারা অবিশ্বাস্য সাহসিকতার পরিচয় দেন। নিজের মা, স্থানীয় পুলিশ এবং মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় তিনি হোটেল থেকে পালিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে যেতে সক্ষম হন। সেই পলায়নের মধ্য দিয়ে তার শারীরিক বন্দিত্ব ঘুচলেও, নাম ও পরিচয়ের ভুল ব্যবহার তাকে এখনো মানসিক পীড়া দিচ্ছে।

মনোহারা তার লেখা খোলা চিঠিতে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের প্রতি অনুরোধ করেছেন যেন তার জীবনের এই ট্র্যাজেডিকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ‘বিয়ে’ বা ‘সম্পর্ক’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে একে স্বাভাবিক রূপ দেওয়া না হয়। তিনি মনে করেন, এটি কেবল তার একার লড়াই নয়, বরং ক্ষমতার অসম বণ্টন ও নাবালিকা নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটি ভাষা।

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

আবারও দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের...

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বিরোধীদলীয় নেত...

২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন প্রা...

ফায়ার সার্ভিস-ARAB-এর যৌথ অভিযান

দুর্যোগকালীন সময়ে দেশব্যাপী বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রেখে ফায়ার সার্ভিসের...

আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ স্থানীয় নির্বাচন

আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার কাঠামোর পাঁচটি নির্বাচন—ইউনিয়...

বরিশালে হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

বরিশাল বিভাগে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে...

যমুনায় দুই নদীবন্দর, ২০০ কিমির পথ কমে ১৬ কিমি

এক পাশে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, অন্য পাশে জামালপুরের মাদারগঞ্জ। মাঝখানে যমুনা নদ...

মক্কা জোটের পর ফ্রান্সের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদির

তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা জোট’ গঠনের পর এবার ফ্রান্সের সঙ...

পাকিস্তানের হাসপাতালে আগুন, পুড়ে মরল ১৫ নবজাতক

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসপাতালের গায়নোকোলজি ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নি...

২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগী, মেঝেতেই চিকিৎসা

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা