১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
ইতোমধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো নাশকতার আশঙ্কার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “১৫ আগস্ট একটি সেনসেটিভ ডে। আমাদের সব ইউনিটেরই আলাদা প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা সতর্ক থাকব। বড় ধরনের কোনো আতঙ্কের বিষয় নেই।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো ধরনের নাশকতা যেন কেউ করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা
১৫ আগস্টকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে মোতায়েন করা হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, মহানগরের বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে।
ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরাও প্রয়োজন অনুযায়ী অপারেশনাল কার্যক্রমে থাকবেন। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। নাশকতার বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।
ডিএমপির ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৫ আগস্ট ঘিরে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
দেশজুড়ে র্যাবের নজরদারি
এদিকে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। নিষিদ্ধ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কোনো মহল যেন নাশকতা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগাম তথ্য পেতে বিভিন্ন এলাকায় সোর্স ও ইনফরমারদের মাধ্যমে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার প্যাট্রোলিং বাড়িয়েছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ১৫ আগস্ট ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপতৎপরতার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি