বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কাছে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে বিদ্যমান নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা ও প্রস্তাবসহ তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিজিএমইএ।
সাক্ষাতে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান এবং পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পোশাক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় ও পদ্ধতি সহজীকরণে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় বিজিএমইএ। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এখনো প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিজিএমইএ নেতারা বকেয়া নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করা, একইসাথে এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে (বর্তমানে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের বিধান রয়েছে) আবেদন জমার সাথে সাথেই যেন অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অর্থমন্ত্রী এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানান এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও সহজতর করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ ছাড়া বৈঠকে বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক সময় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কারখানাকে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না। ফলে কারখানা সচল হতে পারে না এবং ঋণ পরিশোধও বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি একে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল পেলে কারখানা সচল হবে এবং ব্যাংকও তার পাওনা ফেরত পাবে। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবটির সঙ্গেও একমত পোষণ করেন।
বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। তারা কাস্টমস, বন্দর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার অনুরোধ জানান।
আমারবাঙলা/এসএ