বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে বিএনপি তাদের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা ও সংসদ থেকেও তার পদত্যাগের কথা জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান বিএনপির দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, মির্জা ফখরুলের স্থলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে তার।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছেন তার সাবেক রাজনৈতিক সহকর্মী অলি আহমদ বীর বিক্রম। বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করা অলি আহমদ বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছেন। জোটের প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ১৬ আগস্ট হবে মনোনয়নপত্র বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট।
একাধিক প্রার্থী থাকায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটির প্রয়োজন হতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।
বিএনপির সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তাকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখছেন অনেকে।
দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলটির নানা সংকট ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মির্জা ফখরুল। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থার প্রতীক। রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এবার তাকে ছাড়তে হচ্ছে সেই পরিচিত রাজনৈতিক পরিসর ও দীর্ঘদিনের দলীয় দায়িত্ব।
আমার বাঙলা/ রাব্বি