শক্তিশালী দুইটি টর্নেডো মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
টর্নেডোর সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার (৯৩ মাইল)। ঝড়ের প্রচণ্ড শক্তিতে বহু গাড়ি উল্টে গেছে, ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে এবং গাছপালা উপড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রধান শিল্প ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হুবেই প্রদেশে টর্নেডোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় হুয়াংগ্যাং শহরের রাস্তাঘাটে বড় বড় ট্রাক ও গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে। উড়ে আসা ভবনের ছাদ ও ধাতব পাত লেগে বহু যানবাহন ও ল্যাম্পপোস্ট বিকৃত হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের আবহাওয়া দিন দিন চরম রূপ নিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।
এদিকে, শক্তিশালী ভূমিধসের ঘটনায় চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কানসুর পাহাড়ি এলাকায় মাটির নিচে আটকা পড়েছেন অন্তত ১৬ জন নাগরিক। এছাড়া দেশটিতে তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২৭৫ জন মানুষ।
মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রাদেশিক জরুরি বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এই ভূমিধসে শুরুতে মোট ৩৩ জন মানুষ আটকা পড়েছিলেন, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে এখন পর্যন্ত সফলভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সব ধরনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবারের (৭ জুলাই) এই ভূমিধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিষ্কার না হলেও চলতি সপ্তাহে চীনের বেশ কিছু এলাকায় প্রাণঘাতী বজ্রঝড় ও তীব্র বাতাস আঘাত হেনেছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি