‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতা দিয়ে দীর্ঘ দুই দশক আগে দেশের সঙ্গীতজ্ঞানে পথচলার শুরু শিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুলের । এবার প্রথমবারের মতো তিনি গান গাইলেন জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে।
হানিফ সংকেতের এই অনুষ্ঠানের নতুন পর্ব ধারণ করা হয়েছে লক্ষ্মীপুরে। সে পর্বেই তানজিনা রুমার সঙ্গে একটি দ্বৈত গান গেয়েছেন পুতুল। এটি পুতুলের জন্য স্রেফ একটি গানই নয়, স্বপ্নজয়ের গল্পও বটে। কারণ ছোটবেলা থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেছেন, একদিন এই ‘ইত্যাদি’র মঞ্চে গাইবেন।
গতকাল ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিল্পী। পুতুল লেখেন, “ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের বয়স আমার চেয়ে বেশি। শৈশব থেকেই বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসেবে যে অনুষ্ঠানকে জেনে এসেছি, তা ‘ইত্যাদি’। এরচেয়ে জনপ্রিয় কিছু ছিলো না। আজকের প্রজন্ম হয়তো জানে না ‘ইত্যাদি’ কতোটা কাঙ্ক্ষিত একটা অনুষ্ঠান ছিলো দর্শকের কাছে। আর শিল্পীদের কাছে! এ তো বলা বাহুল্য। ‘ইত্যাদি’ ছিলো স্বপ্নের মঞ্চ। ‘ইত্যাদি’তে একটা গান গাওয়া মানে শিল্পী জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমিও কিন্তু শৈশবে স্বপ্ন দেখেছি ‘ইত্যাদি’তে গান গাইবো একদিন। শ্রদ্ধেয় হানিফ সংকেতের মুখে উচ্চারিত হবে আমার নাম!”
পুতুল জানান, স্কুলে পড়াকালীন ভক্ত হিসেবে তিনিও চিঠি লিখতেন ‘ইত্যাদি’তে। গান গাওয়ার সুযোগও চাইতেন। সহস্র চিঠির ভিড়ে তার চিঠিটা হয়তো সে সময় হানিফ সংকেতের চোখেই পড়েনি। পুতুল লিখেছেন, “এরপর কেটে গেছে অনেক সময়। আমি বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে যাত্রা করেছি। টেলিভিশনে প্রতিদিনই গাইছি। সব চ্যানেলে গাওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু একটা জিনিস বাকি ছিল, ‘ইত্যাদি’তে গান গাওয়া। একবার শ্রদ্ধেয় হানিফ সংকেতের সাথে দেখা হলেও বলিনি মনের সেই ইচ্ছার কথা। সেটা মনের ভিতরেই চাপা দিয়ে রেখেছিলাম। জীবন বড় অদ্ভুত! সেই ছোট্টবেলায় মনের মধ্যে পুষে রাখা স্বপ্নটা সত্যি হলো পেশাগত সংগীত জীবনের দুই দশক পরে এসে। এক দুপুরে শ্রদ্ধেয় হানিফ সংকেত ফোন করলেন। ‘ইত্যাদি’তে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। এবারের পর্ব হবে লক্ষীপুরে। যেহেতু ফেনীর মেয়ে আমি, তাই বৃহত্তর নোয়াখালীর শিল্পী হিসেবে আমি এবং তানজিনা রুমা আপু একটা গান গাইবো। বিস্মিত মনে ভাবলাম, চাওয়ার মতো চাইলে সৃষ্টিকর্তা মানুষকে চমকে দিয়ে অনেক কিছু ঘটান।”
পুতুল ও তানজিনা রুমার গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল। সুর-সংগীতে আকাশ মাহমুদ। রেকর্ডিং ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে পুতুল লেখেন, ‘রেকর্ডিংয়ে আমি শুধু শ্রদ্ধেয় হানিফ সংকেতকে দেখছিলাম। তিনি নিজেও দারুণ সংগীতশিল্পী তা সকলে জানেন। কিন্তু তিনি যে কী ভীষণ খুঁতখুঁতে তার কাজের ব্যাপারে, তা দেখলাম সেদিন। নিজে বসে থেকে পুরো রেকর্ডিং তত্ত্বাবধান করলেন, যা তিনি না করলেও হয়তো পারতেন। তার অনুপস্থিতিতে স্টুডিওতে গিয়ে ভয়েস দিয়ে দিলেও কাজ হয়ে যেতো। কিন্তু তিনি সূক্ষ্মভাবে পুরো কাজটা তদারকি করলেন। শুটিং এ আমরা গেলাম লক্ষীপুরে। সে তো আরেক বিস্ময় জাগানো অভিজ্ঞতা। শিল্পীদের প্রতি তার সম্মানবোধ দেখে দারুণ লাগল। প্রোডাকশনের প্রতিটা মানুষের সাথে তার আচরণ, তার বিনয়, তার সহানুভূতি, তার মানবিকতা আমাকে শুধু মুগ্ধ করেনি, উপলব্ধিও করিয়েছে যে কিংবদন্তি হতে হলে কী কী গুণাবলী থাকতে হয়। অহংকার করার সবটুকু কারণ থাকার পরেও এতোটা নিরহংকারী একজন হানিফ সংকেতকে আবিষ্কার করব, তা ভাবিনি।’
‘ইত্যাদি’র এই পর্ব প্রচারিত হবে শুক্রবার ৩১ জুলাই রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর, বিটিভিতে।
আমার বাঙলা/ হুমায়রা