সংগৃহিত
আন্তর্জাতিক
ডব্লিউএইচওর সতর্কবার্তা

ইউরোপে হাম বেড়েছে ৪৫ গুণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৩ সালে ইউরোপে হামের মারাত্মক বৃদ্ধি ঘটেছে। মাত্র এক বছরে ইউরোপজুড়ে এই রোগটির প্রাদুর্ভাব বেড়েছে ৪৫ গুণ।

জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসেব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইউরোপে হামে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ২০০ জন। তার আগের বছর ২০২২ সালে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মাত্র ৯৪১ জন। এই আক্রান্তদের অধিকাংশেরই বয়স ১৬ বছর বা তার চেয়ে কম।

আকস্মিক বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ডব্লিউএইচও’র ব্যাখ্যা, করোনা মহামারির সময় হামের টিকাপ্রদানের ব্যাপারটিতে গুরুত্ব কম দেওয়া হয়েছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ফলে অনেক শিশু হামের টিকা পায়নি। এটিই রোগটির এভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস শহরটিতে হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে তা আশপাশের শহর ও গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে।

দেশটির প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যে ১৬ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী ৩৪ লাখেরও বেশি শিশু-কিশোর-কিশোরী হামে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ইতোমধ্যে অবশ্য লাখ লাখ অভিভাবক তাদের শিশুদের হাম, মাম্পস এবং রুবেলার টিকা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। হামের টিকার ডোজ দু’টি। প্রথম ডোজ দিতে হয় শিশুর এক বছর বয়স হলে। শিশুর বয়স ৩ বছর চার মাসে পৌঁছালে দিতে হয় দ্বিতীয় ডোজ।

বর্তমানে যে টিকা বাজারে প্রচলিত রয়েছে, তা হাম প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যকর। কিন্তু যুক্তরাজ্যের অভিভাবকদের মধ্যে এ সম্পর্কিত সচেতনতা কম। এনএইচএসের পরিসংখ্যান বলছে, সদ্য স্কুলে ভর্তি শিশুদের মধ্যে ৮০ শতাংশ এই টিকার দুই ডোজ সম্পূর্ণ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ শাখার পরিচালক ড. হ্যান্স ক্লাগ বিবিসিকে বলেন, ‘গত বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ গুন বেড়েছে, প্রায় ২১ হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক, কারণ এর আগে কখনও এই অঞ্চলে হামের এত বেশি প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হয়নি।’

শিশুদের হামের টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করতে অভিভাবকদের তাগিদ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘ভয়াবহ এই রোগটি থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করা।’

হাম মূলত একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাপক জ্বর হয় এবং শরীরে ফুস্কুড়ি ওঠে। সাধারণত ১০ দিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে তবে অনেক সময় হামে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, খিঁচুনির মতো উপসর্গও দেখা যায়। সূত্র : বিবিসি

এবি/এইচএন

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরির গণ্ডি থেকে বের করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং...

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ

জয় দিয়েই নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির মিশন শেষ করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। শনি...

দেশে সারের কোনো সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম...

এক ফ্রেমে হাস্যোজ্জ্বল শি-মোদি-পুতিন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬। সম্মেলনের শুরুতেই...

ছয় মাসেও জ্বালানি সংকট কাটাতে পারেনি সরকার: ডা. শফিকুর রহমান

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সরকার গত ছয় মাসেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংক...

রাপা প্লাজায় এডিসের লার্ভা, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম দিনেই রাজধানীর...

আওয়ামী লীগকে ফেরাতে জামায়াত চক্রান্ত করছে: রাশেদ খাঁন

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জামায়াতে ইসলামী একধরনের চক্রান্ত করছে...

মোহাম্মদপুরে থাকবে না কিশোর গ্যাং: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দি...

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি...

পানি বণ্টন নিয়ে ভারতকে শিগগিরই অবহিত করবে সরকার: তিতুমীর

পানি বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা