দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে এত অল্প সময়ে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হলেও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উত্তাল জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আন্দোলনে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান যেদিন বাতিল হলো, সেদিনই ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা গিয়েছিল। এরপর আওয়ামী লীগ তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। এত অল্প সময়ে সেই ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে কাজ শুরু হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সনদ নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, সেসব বিষয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলে দলগুলো নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করারও আহ্বান জানান।
বিএনপির দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, এটি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা নির্বাচনে বিশ্বাস করি এবং নির্বাচনের মধ্যদিয়েই রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কল্যাণ করতে চাই।’
আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, কখনোই সংস্কারের কথা বলিনি: মির্জা ফখরুল
বিগত সরকারের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে এবং ইলিয়াস আলীসহ প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে।
এডিটর’স কাউন্সিলের এই অনুষ্ঠানে আলোচকরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের সাহসিকতার প্রশংসা করার পাশাপাশি বিগত আমলের তোষামোদি সাংবাদিকতার তীব্র সমালোচনা করেন। তোষামোদি পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতারা।
আমার বাঙলা/ রাব্বি