চলতি বছরের শুরুতে হিন্দি সিনেমায় প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। তবে তার এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া নয়। বরং বেশ কিছুদিন ধরেই সিনেমার গানে আগ্রহ হারাচ্ছিলেন তিনি—এমনটাই জানিয়েছেন দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সংগীত পরিচালক আমাল মালিক।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অরিজিতের প্লেব্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আমাল। তার ভাষ্য, অরিজিতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি মোটেও আকস্মিক ছিল না। গত দুই-এক বছর ধরেই প্রচলিত প্লেব্যাকের প্রতি অরিজিতের আগ্রহ কমতে দেখেছেন তারা।
আমাল বলেন, অরিজিতকে কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেননি। বরং নিজের উপলব্ধি থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা কয়েক বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রচলিত ধরনের সিনেমার গানে অরিজিতের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে আসছে।
আমালের মতে, হিন্দি চলচ্চিত্রে অনেক সময় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে জনপ্রিয় শিল্পীদের দিয়ে গান গাওয়ানোর প্রবণতা রয়েছে। অনেক নির্মাতা মনে করেন, অরিজিৎ গান গাইলেই সেটি জনপ্রিয় হবে। কিন্তু অরিজিৎ উপলব্ধি করেছিলেন, শুধু একজন জনপ্রিয় গায়কের নামের ওপর একটি গান দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
তার মতে, একটি ভালো গান তৈরি করতে গায়ক, সুরকার ও গীতিকারের মধ্যে ভালো সমন্বয় ও রসায়ন প্রয়োজন। শুধু পরিচিত মুখকে দিয়ে গান গাওয়ালেই সাফল্য নিশ্চিত হয় না।
বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ৭০০টি গান গাওয়ার পর একজন শিল্পীর কাজের প্রতি একঘেয়েমি বা ক্লান্তি তৈরি হওয়াকে স্বাভাবিক বলেও মনে করেন আমাল। তার মতে, ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় সরে দাঁড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস সবার থাকে না।
আগামী ‘আওয়ারাপন টু’ সিনেমাতেও অরিজিতের সঙ্গে কাজ করেছেন আমাল মালিক। প্লেব্যাক থেকে অরিজিতের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় ভক্তদের একাংশ হতাশ হলেও তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে দেখছেন।
আমার বাঙলা/ রাব্বি