২০২৬ সালের জুন মাসজুড়ে রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনে ২৯৩ জন বেসামরিক নিহত এবং ১ হাজার ৯০৪ জন আহত হয়েছেন। চার বছরের যুদ্ধের মধ্যে জুন মাসে বেসামরিক হতাহতের এ সংখ্যাই সর্বোচ্চ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএন হিউম্যান রাইটস মনিটরিং মিশন ইন ইউক্রেন (এইচআরএমএমইউ) গতকাল প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুনে রুশ হামলায় নিহত বেসামরিকের সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি।
এইচআরএমএমইউর প্রধান ড্যানিয়েলে বেল বিবৃতিতে বলেন, “জুন মাসে বেসামরিক নিহতের এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে ইউক্রেনের ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকাগুলোতে শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার মাত্রা সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে রাশিয়া।”
তিনি আরও বলেন, গত জুনে রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও দিনিপ্রো, ওডেসাসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর বহু আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এসব হামলার কারণেই বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জুন মাসের পর ইউক্রেনে গত চার বছরের যুদ্ধে নিহত মোট বেসামরিকের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছেছে। এইচআরএমএমইউ’র বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে শুধু দূরপাল্লার রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যত সংখ্যক ইউক্রেনীয় বেসামরিক নিহত হয়েছিলেন— চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন ছয় মাসে এই হার বেড়েছে শতকরা ৬০ শতাংশ।
২০২৬ সালে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ফ্রন্ট লাইন বা মূল যুদ্ধক্ষেত্রের আশপাশের লোকালয়গুলোতে স্বল্প পাল্লার ড্রোনের ব্যবহারও বাড়িয়ে দিয়েছে রুশ বাহিনী। জুন মাসে এত সংখ্যক বেসামরিক নিহত হওয়ার এটিও একটি কারণ। নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাশাপাশি ড্রোন হামলা এসব লোকালয়ের পরিবেশও পরিবর্তন করে ফেলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের বিবৃতিতে।
“অনেকেই বলেছেন যে, শুধুমাত্র খাবার কেনা, কুকুরকে হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া, সাইকেল চালানো, বাড়ির উঠোনে কাজ করা বা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজ করার সময় তারা স্বল্প-পাল্লার ড্রোনের শিকার হওয়ার আতঙ্কে থাকেন”, বিবৃতিতে বলেছেন ড্যানিয়েলে বেল।
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত অনুসারে কৃষ্ণ সাগরের ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরের অভিযোগে টানাপোড়েন শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী।
এখনও সেই যুদ্ধ চলছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধের ৪ বছর পূর্ণ হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি