বিশ্বকাপে এটি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ সাক্ষাৎ। আগের পাঁচ দেখায় সামান্য এগিয়ে ইংল্যান্ড। তিনবার জয়ের বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয় দুটি। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। তিনবারের মুখোমুখিতে দুইবারই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপে প্রথমবার মুখোমুখি হয় দুই দল। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারায় ইংল্যান্ড। এরপর ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয় ইংলিশরা। এবার ১-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। পরে পর্তুগালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে তারা এবং পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে জেতে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।
এরপর ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায়। তবে ম্যাচটি শুধু ফলাফলের জন্য নয়, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তের জন্যও স্মরণীয় হয়ে আছে। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ম্যারাডোনার হাতের স্পর্শে পাওয়া গোলটি পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়।
ঐ গোল নিয়ে পরবর্তীতে ম্যারাডোনা বলেছিলেন ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই ফুটবল ইতিহাসে ম্যারাডোনার সেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
বিতর্কিত গোলের চার মিনিট পর আবারও ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান ম্যারাডোনা। ফলে ৫৫ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের লিনেকার গোল করে ব্যবধান কমান। তবে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠে ম্যারাডোনার দল। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা।
১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের মাটিতে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৪-৩ গোলে হারায় আলবিসেলেস্তেরা। নির্ধারিত সময় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র ছিল। ২০০২ সালে পঞ্চবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে হওয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম। ঐ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ আটে ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হারে ইংলিশরা।
ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পরিসংখ্যান
১৯৬২ সাল : ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)
১৯৬৬ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)
১৯৮৬ সাল : আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)
১৯৯৮ সাল : আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (শেষ ষোলো, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী আর্জেন্টিনা)
২০০২ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)
আমার বাঙলা/ রাব্বি