রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) চার শিক্ষকের ১২টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল। পিয়ার রিভিউ (বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন) প্রক্রিয়ায় কারচুপি, গবেষণার তথ্য ও ফলাফলে অসংগতি, প্লেজিয়ারিজম, একই তথ্য পুনর্ব্যবহার, অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন (উদ্ধৃতি-সংখ্যা) বাড়ানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌহিদুল ইসলামের ১০টি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুল হুদা লিটনের যৌথ একটি এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুল কবির বিপ্লবের একটি গবেষণাপত্র রয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী Retraction Watch Database–এর তথ্য বিশ্লেষণে বিষয়টি উঠে এসেছে। ডাটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণা-নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল সময়ে সময়েই এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গবেষণাপত্র বিভিন্ন কারণে প্রত্যাহার হতে পারে। তবে যদি অনিয়মের কারণে প্রত্যাহার হয়, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো নীতিমালা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উল্লেখ রয়েছে, যেসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধান নেই, সেসব ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
এ বিষয়ে বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, অনিয়মের কারণে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হওয়ায় শাস্তিস্বরূপ তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌহিদুল ইসলামের এক বছরের পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন যাদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাহারের কারণ তদন্ত করবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি