আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বহাল রাখা এবং তাদের হয়রানির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশকে সরকার ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে করোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আবারও ভারতজুড়ে আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে করা একাধিক আবেদনের শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের জোরপূর্বক পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড নেই এবং যারা আটক রয়েছেন, তাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালত জানায়, দিল্লি সরকার (এনসিটি) ও অন্যান্য রাজ্য সরকার আগে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এই সুরক্ষা অবশ্য যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অতীতের তথ্য রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আদালতের এই নির্দেশ পুরো দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, গত ২৫ জুলাই সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আদালতের এ নির্দেশ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার তখন আশ্বাস দিয়েছিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কাউকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হয়রানি করা হবে না। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতেই সিজেপি সারা দেশের আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল।
সৌরভ দাসের দাবি, এখন তাদের আশঙ্কা হচ্ছে, ভারত সরকার ও বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের এ আদেশকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বহাল রাখবে এবং তাদের হয়রানি করবে।
তার ভাষায়, শুরু থেকেই তাদের আশঙ্কা ছিল, আদালতকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন করা হতে পারে।
তার দাবি, জনসমক্ষে দেয়া এমন প্রতিশ্রুতি গোপনে দুর্বল করে দেওয়া যায় না। কেন্দ্র ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্য সরকার চাইলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার করতে পারে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
এদিন সোমবারের মতো মঙ্গলবারও সরকারকে দেয়া সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দেন সৌরভ দাস। তিনি বলেন, ‘সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে। আমরা আবারও আহ্বান জানাচ্ছি— সব এফআইআর প্রত্যাহার করুন, ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হলে সিজেপির সামনে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। তার ভাষায়, ‘যে সরকার নিজের দেওয়া কথা রাখে না, তারা তরুণদের নীরব থাকার আশা করতে পারে না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে ভারতের রাজপথ আবারও তরুণদের কণ্ঠে মুখর হবে।’
এর আগে গত সোমবার সিজেপির আরেক মুখপাত্র অশুতোষ রানকা অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং শত শত আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর দ্রুত প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও বিজেপি-সমর্থিত রাজ্যগুলোর পুলিশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২০ জুলাই তারা ‘সংসদ চলো মার্চ’ কর্মসূচি পালন করে। ওই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় পালটাপালটি হামলায় আহত হন শতাধিক পুলিশ সদস্যও।
পরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর গত শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সিজেপি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি