চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বাড়ছে এবং আগামী কয়েক বছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কম্পানি সিনোপেকের অর্থনীতি ও উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের মোট গাড়ির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও দশকের শেষ দিকে এই বৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ির এই উত্থান বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীনের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির সংখ্যা কমে যাওয়ায় চলতি বছরই চীনে তেলের চাহিদা ৫ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন বা প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল কমতে পারে বলে হিসাব দিয়েছে সিনোপেক। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘাটতি আসছে পেট্রোলচালিত গাড়ি থেকে এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ ডিজেল থেকে।
চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার। গত জুলাইয়ে দেশটিতে মোট বিক্রিত গাড়ির ৬৫ শতাংশই ছিল বৈদ্যুতিক, যা গত বছর ছিল ৫৩ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানে শুধু ব্যাটারিচালিত গাড়ি নয়, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাছাড়া চীনের গণপরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় সব গাড়িই এখন বিদ্যুৎচালিত।
চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির এই অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার পেছনে কাজ করেছে সরকারের জোরালো সহায়তা এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিশাল চার্জিং অবকাঠামো। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ চার্জিং কেন্দ্র রয়েছে, যার একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত এবং বাকিগুলো পাবলিক ব্যবহার উপযোগী। বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহরগুলোতেও চার্জিং সুবিধা সহজে পাওয়ায় চালকদের রেঞ্জ অ্যানজাইটি বা চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় দূর হয়েছে। ফলস্বরূপ, দেশটির গাড়ির বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক তেলের বাজারেও আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।