সংগৃহীত
পরিবেশ

চীনের ইউনান প্রদেশে আছে বিস্ময়কর পাথরের জঙ্গল

আমার বাঙলা ডেস্ক

সাধারণত জঙ্গল মানে গাছপালায় ভরপুর সবুজের এক সমারোহ। সহায়ক পরিবেশ হওয়ায় থাকবে নানা জীববৈচিত্র্য। থাকবে ঝরনা, পাখির কলকাকলি। থাকবে নানা প্রাণী। ভয়জাগানিয়া অশরীরিও থাকতে পারে!

কিন্তু জঙ্গল যদি হয় পাথরের। শুনতে অবাক লাগলেও চীনের ইউনান প্রদেশে আছে এমন জঙ্গল। যাকে বলা হয় শিলিন অর্থাৎ পাথরের জঙ্গল।

এটি এমন এক জঙ্গল, যেখানে গাছপালার সমারোহ নেই, ফুলের সুবাস নেই আছে পাথরের এক বিস্তৃত সমারোহ? হাজার হাজার বছর ধরে বৃষ্টি, বাতাস আর প্রকৃতির অন্যান্য শক্তি মিলে এই পাথরগুলোকে এমন আকৃতি দিয়েছে যা দূর থেকে দেখে মনে হবে প্রকৃতির হাতে গড়া এক পাথরের বন। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় রয়েছে এই স্থানের নাম।

শিলিনের পাথরের জঙ্গল আসলে কোনো গাছ নয়, তবে দেখলে গাছের মতোই মনে হয়! এই অঞ্চলের পাথরের স্তম্ভগুলো ২৭০ মিলিয়ন বছর পুরনো চুনাপাথরের তৈরি। একসময় এখানে বিশাল এক সাগর ছিল। সময়ের সঙ্গে মাটি ভেঙে পাথরে পরিণত হয়। আর ঝড় ও পানির জ্বালায় গঠিত হয় অদ্ভুত সব আকারের পাথরের স্তম্ভ, যা দেখে মনে হয় যেন পাথরের জঙ্গল! উচ্চতায় প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা পাথরের স্তম্ভগুলো দাঁড়িয়ে আছে গাছের মতোই। আর এই কারণেই প্রাকৃতিকভাবে গঠিত পাথরের স্তম্ভ ‘পাথরের জঙ্গল’ নামে পরিচিত।

এই ‘পাথরের জঙ্গলে’ ঢুকলে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন এক ভিন্ন জগতে। পাথরের মাঝে সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে, যেন প্রকৃতির গড়া কোনো প্রাচীন নগরীর মধ্যে প্রবেশ করেছেন। এটি এমন এক স্থান, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে রহস্যময়তার এক অদ্ভুত মিশ্রণ পাওয়া যায়।

শিলিন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বও রয়েছে। ২০০৭ সালে, শিলিনের এই বিস্ময়কর অঞ্চলকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। পর্যটকরা এখানে এসে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই উপভোগ করেন না, বরং এই স্থানটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী কিংবদন্তি ও ইতিহাসও আবিষ্কার করেন। শিলিনের ‘আশিমা’ নামক একটি লোকগাথা রয়েছে, যেখানে বলা হয় যে আশিমা নামে এক সুন্দরী মেয়ে পাথরের রূপান্তরিত হয়েছিল।

এই ‘পাথরের জঙ্গল’ নিয়ে গবেষকরা বলছেন, প্রায় ৫০৫ মিটার উচ্চতার স্তরগুলো তৈরি হয়েছে পার্মিয়ান যুগের মাকৌ এবং কিক্সিয়া গঠন থেকে। এই অঞ্চল চীনের বৃহত্তম কার্স্ট অঞ্চলগুলোর একটি। এ ছাড়া শিলিন এলাকায় রয়েছে বেশ কিছু প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ, যেমন চাং হ্রদ ও ইউয়েহ হ্রদ, যা এই অঞ্চলকে আরো বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। এই বিস্ময়কর স্থানটি শুধু তার ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যেই নয়, স্থানীয় উদ্ভিদকুলের জন্যও বিখ্যাত। এখানে চিরসবুজ বৃক্ষের বন এবং বিশেষ করে কিছু বিরল উদ্ভিদ দেখা যায়, যা ইউনান প্রদেশের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।

আমারবাঙলা/এমআরইউ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ

জয় দিয়েই নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির মিশন শেষ করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। শনি...

এক ফ্রেমে হাস্যোজ্জ্বল শি-মোদি-পুতিন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬। সম্মেলনের শুরুতেই...

কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরির গণ্ডি থেকে বের করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং...

দেশে সারের কোনো সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম...

সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলায় ইরান জড়িত থাকতে পারে: ট্রাম্প

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক ড্...

রাপা প্লাজায় এডিসের লার্ভা, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম দিনেই রাজধানীর...

আওয়ামী লীগকে ফেরাতে জামায়াত চক্রান্ত করছে: রাশেদ খাঁন

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জামায়াতে ইসলামী একধরনের চক্রান্ত করছে...

মোহাম্মদপুরে থাকবে না কিশোর গ্যাং: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দি...

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি...

পানি বণ্টন নিয়ে ভারতকে শিগগিরই অবহিত করবে সরকার: তিতুমীর

পানি বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা