ঈশ্বরদীতে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সোয়া চার লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল হোতা আকবর খান (৩০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যরা এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার এবং বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
থানা সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-৩৯ (তারিখ: ২৬ জুলাই ২০২৬), দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯২ ধারার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আকবর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আকবর পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা মধ্যপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার সিংগা গ্রামে আকবরের শ্বশুর ফারুক বিশ্বাসের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট চরপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহিন আলী গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় ছয় চাকার একটি ট্রাকে মাছ নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মাছের আড়তের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী আনিছুর রহমান (২২)। পরদিন ভোরে মাছ বিক্রি করে নগদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী চাঁদ আলীর মোড়ে পৌঁছালে কালো রঙের একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়।
তারা ট্রাকে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে মাছ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। একপর্যায়ে মাছ বিক্রির নগদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকা থাকা ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে তল্লাশি করা হবে বলে জানায়। এরপর সহকারী আনিছুর রহমানকে টাকার ব্যাগসহ মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে শাহিন আলী রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে কাউকে আনা হয়নি। কিছুক্ষণ পর আনিছুর রহমান অপরিচিত এক ভ্যানচালকের মোবাইল ফোন থেকে জানান, হারুখালী মাঠসংলগ্ন রেশম বাগান এলাকায় তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা দাশুড়িয়ার দিকে পালিয়ে গেছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের তদন্তের সমন্বয়ে মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ছিনতাইকৃত অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান বলেন, “ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সংঘটিত এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাইকৃত বাকি অর্থ উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি