বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণ নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবন এবং বাথরুমে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসাসামগ্রী পড়ে থাকার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তে নেমেছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচালিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান এবং বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসপাতালের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। তিনি ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ এবং খাবারের গুণগত মান সম্পর্কে সরাসরি তথ্য নেন। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও মূল্যায়ন করা হয়।
পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে সংরক্ষিত প্রায় ৩০ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব ওষুধের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৯ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনকে যথাযথ নিয়ম মেনে ওষুধ অপসারণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এসব ওষুধ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ বন্ধ করার নির্দেশ দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার সময় তিনি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে বিপুল সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সিরিঞ্জ এবং চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষিত অবস্থায় দেখতে পান। এমনকি হাসপাতালের বাথরুমেও ওষুধ ও স্যালাইনের স্তূপ পাওয়া যায়।
ঘটনাটি নজরে আসার পরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি ওষুধ সংরক্ষণে অনিয়ম, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অপসারণে অবহেলা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।