ফরিদপুরের সালথা উপজেলার একটি কৃষি মাঠ সংলগ্ন সড়ক থেকে হাত-পা কাটা অবস্থায় পান্নু ফকির ওরফে জামু রহমান ফকির (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার যদুনন্দী মৌজার একটি সড়কের পাশে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) গভীর রাতে সালথা বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন জামু রহমান ফকির। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে অন্যত্র হত্যা করে পরে মরদেহটি যদুনন্দী মৌজার কৃষি মাঠ সংলগ্ন সড়কে ফেলে রাখা হয়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাত-পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আল ফাহাদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পাটক্ষেত বা নির্জন কোনো স্থানে হত্যা করার পর সড়কের ওপর ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ঘটনার পর কুমারকান্দা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের স্বজনরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
আমার বাঙলা/আরএ