সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকা থেকে পাঁচটি তাজা হাতবোমা ও বিস্ফোরকসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের এলাকায় একটি তিনতলা ভবন ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন ভবনটি ঘিরে ফেলে সিটিটিসি ও পুলিশ। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সেখানে অভিযান চলছিল।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকা থেকে পাঁচটি হাতবোমা ও বিস্ফোরকসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ওসি বলেন, বাড়িটি চলতি মাসের শুরুতে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)–এর বেশ কিছু লিফলেট, কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়ও এ মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, ভবনটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম মজুত রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে ভবনটি তালাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে ভবনটি ঘিরে রাখায় শ্যামপুর ও আশপাশের এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভবনটির আশপাশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভবনের সামনের সড়কে সাধারণ মানুষের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
ভবনটির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে আগে থেকে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। গত ২ আগস্ট আব্বাস আলীসহ আরও একজন বাসা ভাড়া নিতে আসেন। তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানান, পরিবার নিয়ে সেখানে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করাবেন।
ইলমা বলেন, ভাড়া নেওয়ার সময় তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন বলে জানিয়েছিলেন। বাসার ভেতরে এ ধরনের কোনো জিনিস রাখা হবে, তা তারা জানতেন না। সাধারণ ভাড়াটিয়া হিসেবেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত ৩০ জুলাই রাতে আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় হৃদয় চাকমার মালিকানাধীন ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর একটি বেঞ্চে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে একটি ‘প্রেশার কুকার বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপদ স্থানে বোমাটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি