চাকা নেই, তাই টাকা নেই’—শিল্পকারখানার উৎপাদন চাকা থেমে যাওয়ায় এমন বাস্তবতার মুখোমুখি শ্রমিকরা। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন, কমছে কাজের সুযোগ। ফলে আয় কমে যাওয়ায় সংসারের খরচ মেটাতে ধার-দেনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক শ্রমিককে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। কোথাও উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বন্ধ রয়েছে কারখানার কার্যক্রম। এতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়ছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন মালিকরা, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও আয় হারানোর আশঙ্কায় পড়ছেন শ্রমিকরা।
নিয়মিত কাজ না থাকায় বেতনভুক্ত শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক ও কাজের পরিমাণ অনুযায়ী মজুরি পাওয়া শ্রমিকদের আয়ও কমে গেছে। আগে যেখানে নিয়মিত কাজ করে সংসারের খরচ চালানো সম্ভব হতো, এখন সেখানে অনিয়মিত কাজের কারণে মাসিক আয় অনেকটাই কমে গেছে।
আয় কমে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে অনেক শ্রমিককে ঋণ করতে হচ্ছে। ফলে কাজের অনিশ্চয়তার সঙ্গে বাড়ছে ঋণের চাপও। শ্রমিকদের অনেকেই বলছেন, কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক না হলে তাঁদের এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন।
অন্যদিকে শিল্প মালিকরাও বলছেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে শিল্প খাতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। উৎপাদন, ক্রয়াদেশ ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা ।
আমার বাঙলা/ রাব্বি