জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহরণের ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। অন্তত তিন বাংলাদেশি প্রবাসী অপহরণের শিকার হয়েছেন এ মাসেই। দুজন মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ।
সবশেষ শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গের ফোর্ডসবার্গ এলাকা থেকে অপহৃত হন ঢাকার দক্ষিণখানের বাসিন্দা তানভীর আহমেদ বিন্দু। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি আলোচিত অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মাত্র ১৮ দিন আগে বাসায় ফেরার পথে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসা তানভীর কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন। পুলিশ অভিযান চালালেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
এরআগে, গত ১৮ জুলাই নোয়াখালীর বজরা ইউনিয়নের মো. আরিফ অপহরণের শিকার হন। পরিবারের দাবি, ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ১ লাখ রেন্ট মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে সম্প্রতি অপহরণের শিকার হওয়া আরেক বাংলাদেশি সাইফুল ইসলাম মোবারককে প্রায় ২০ লাখ রেন্ট মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়ে অপহরণকারীরা। বন্দিদশায় তার ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার হাতের একটি আঙুল কেটে ফেলা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গত ১০ জুলাই তিনি বাংলাদেশে ফিরে যান।
শুধু বাংলাদেশিরাই নন, চলতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে একাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭ জুলাই মঙ্গলবার জোহানেসবার্গের ফোর্ডসবার্গের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আখালাওয়া গ্রুপের অন্যতম কর্ণধান শিরিন আখালওয়া ৭২ বছর বয়সী এক নারী অপহৃত করা হয়। বিশেষ অভিযানে গত ৮ জুলাই তাকে জীবিত উদ্ধার করে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ। এ ঘটনায় ৯ জুলাই তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের লক্ষ্য করে অপহরণ, সশস্ত্র ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা বাড়তে থাকায়। প্রবাসীদের একা চলাচল এড়িয়ে চলা, রাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশ ও কমিউনিটিকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
আমার বাঙলা/ তালহা