ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯৬ সালের মায়ের মৃত্যুর পরের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ। তিনি জানান, মাকে হারিয়ে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে তখন মনে হয়েছিল জীবনের সবকিছু যেন শেষ হয়ে গেছে।
গোবিন্দর মা নির্মলা দেবী ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন ৬৯ বছর বয়সে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর শোক সামলাতে না পেরে অভিনেতা চলে যান নর্মদা নদীর তীরে।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে গোবিন্দ বলেন, তিনি ভেবেছিলেন নদীর আরও গভীরে গেলে হয়তো মায়ের সঙ্গে আবার দেখা হতে পারে। এই ভাবনা থেকেই তিনি পানির মধ্যে হাঁটতে শুরু করেছিলেন।
এটি আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গোবিন্দ জানান, এক অর্থে সেটি আত্মহত্যার চেষ্টাই ছিল। মায়ের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাইরের মানুষ ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তবে তার কাছে জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি নতুন কোনো রূপে এগিয়ে চলার নাম।
নদীতে নামার পর তীরে থাকা রাম কুণ্ডল নামে এক সাধু গোবিন্দকে দেখতে পান। তিনি অভিনেতাকে ডাক দেন এবং তার দিকে এগিয়ে যান। গোবিন্দ জানান, পানি থেকে উঠে আসার পর ওই সাধু তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কী হয়েছে গোবিন্দ?’
সাধুর ওই প্রশ্নই যেন তার চেতনা ফিরিয়ে দেয়। গোবিন্দ উপলব্ধি করেন, তিনি যা করছিলেন তা ভুল ছিল। সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ওই দিনই জীবনের একটি বড় শিক্ষা পেয়েছিলেন—তার সন্তানদের জন্য তাকে বেঁচে থাকতে হবে।
মায়ের মৃত্যুর শোক ও সেই কঠিন মানসিক অবস্থা থেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে গোবিন্দর প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগেছিল।
আমার বাঙলা/ রাব্বি