বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে বিভিন্ন জালিয়াতির তদন্তের মুখে পড়ে বুধবার রাতে সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুসের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। রয়টার্সের হাতে আসা ওই পদত্যাগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদের এই পদত্যাগের ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ‘চীন সফরে আর্থিক জালিয়াতি’ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনে ডব্লিউএইচও। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেন যে, ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তাকে দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত বাধা দিয়ে আসায় তিনি সংস্থার নেতৃত্বের ওপর সব বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া, তাকে প্রায় এক বছর ধরে অবৈতনিক ছুটিতে রাখার কারণে তার আর্থিক অবস্থাও বেশ নাজুক হয়ে পড়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাঁচ বছরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
তবে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাকে কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় আসামি করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। পরবর্তীতে একই বছরের নভেম্বর মাসে প্লট দুর্নীতির এক মামলায় তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত এবং তাকে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারিরও আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
সায়মা ওয়াজেদের এই পদত্যাগের পর জাতিসংঘভিত্তিক এই সংস্থাটি নতুন করে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। দুটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর নতুন মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।