গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পেটে কাপড় বেঁধে প্রসূতি সেজে কৌশলে এক নবজাতক চুরি করে পালানোর সময় স্থানীয়দের হাতে স্বামী-স্ত্রী আটক হয়েছেন। পরে তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নবজাতকের মায়ের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা গ্রামের মৃত ভোলা মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শিফালী বেগম। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নবজাতকের স্বজনরা জানান, তালুককানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য সোমবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
প্রসবের পর শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের বেডের পাশে অবস্থান করছিলেন তার দাদি জয়গুন বেওয়া। এ সময় পাশের বেডে থাকা শিফালী বেগম নিজেকে প্রসূতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে কোলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সরল বিশ্বাসে জয়গুন বেওয়া তার হাতে নবজাতককে তুলে দেন।
কিছুক্ষণ শিশুটিকে কোলে রাখার পর সুযোগ বুঝে শিফালী বেগম তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে হাসপাতালের নিচে নেমে যান। তারা শিশুটিকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পান জয়গুন বেওয়া। শিশুকে দেখতে না পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন।
তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত নিচে নেমে অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে নবজাতকসহ শিফালী ও সিরাজুলকে আটক করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একটি শিশু পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। এ সময় প্রসূতি সাজার জন্য শিফালী বেগমের পেট ও কোমরে কাপড় বাঁধার বিষয়টিও সামনে আসে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার জানান, এ ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি