অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৪ অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত আগের একটি রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে সময় বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়টি প্রত্যাহার করে প্রধান বিচারপতির কাছে মামলার নথি পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে প্রধান বিচারপতির আদেশে মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ২০১২-১৩ থেকে শুরু করে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত বিভিন্ন করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের প্রদেয় কর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত সে সময় রুল জারি করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ সেই রুল খারিজ করে রায় দেন। এই রিট খারিজ হওয়ার ফলে এনবিআরের করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবির আইনি বৈধতা বহাল থাকল এবং প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এই অর্থ আদায়ে এনবিআরের আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
রায়ের পর গ্রামীণ কল্যাণের অন্যতম আইনজীবী খাজা তানভীর সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই কর দাবিকে তারা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, কিন্তু আদালত আজ সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতের এই আদেশের ফলে এনবিআরের দাবিই শেষ পর্যন্ত বহাল রইল বলে জানান তিনি।