জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’। নতুন এই আইন পাসের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ’ রদ করে বাংলায় একটি আধুনিক আইনি কাঠামো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে র্যাব সংক্রান্ত পূর্বের বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এপিবিএনকে অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের কাজের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়।
নতুন এই আইনের ফলে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলো এখন থেকে এপিবিএন-এর একক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বাহিনীটি এখন থেকে সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে।
তাছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের নির্ধারিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা বিধান এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার গুরুদায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
আইনে প্রথমবারের মতো এপিবিএন কর্মকর্তাদের ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করার আনুষ্ঠানিক ভার দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এবং পুলিশ রেগুলেশনস, ১৯৪৩ অনুসরণ করে ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তদন্তের সুবিধার্থে ব্যাটালিয়নকে নিজস্ব ডিটেনশন সেল বা আটক কেন্দ্র, ব্যারাক এবং জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের আইনি অনুমতিও প্রদান করা হয়েছে।
সমগ্র বাহিনীটি পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে, যা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সার্বিক তদারকিতে থাকবে। এছাড়া প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবন বাড়াতে এপিবিএন সদর দপ্তরে একটি আধুনিক সাইবার সেল এবং গবেষণা ইউনিট গড়ে তোলা হবে। অপারেশনাল প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর বাইরে থেকে আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক বা ডেপুটেশনে নিয়োগের সুযোগ রাখা হলেও বাহিনীতে যোগদানের পর সবার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন এই আইনে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিচারিক কাঠামোতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো অধ্যাদেশের অধীন প্রচলিত পুলিশ-প্রধান আদালত ব্যবস্থার পরিবর্তে এপিবিএন বিশেষ ও আপিল আদালতে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অংশগ্রহণের আইনি বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে আইনি আবেদন দায়ের করা যাবে।