ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফ্লোরেস অঞ্চলে আবারও ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
জার্মানির ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজি) এক বিবৃতিতে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ফ্লোরেস ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত একটি অঞ্চল। এর আগে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) একই প্রদেশে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ৩৪১টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়। মূল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলও ছিল ফ্লোরেস এলাকায় এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেঙ্গারার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বিএনপিবি। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশেও ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর সুমাত্রার অন্যতম বড় শহর পেমাতাংসিয়ানতার থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৮৩ দশমিক ২ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে গত রোববার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রাদেশিক সরকার ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অন্তরা নিউজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার একদিন পরই ফ্লোরেস অঞ্চলে নতুন করে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানল। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি